কমল মজুমদার ,সুতি ৬ সেপ্টেম্বর : বিদ্যালয় আছে কিন্তু ঘর নাই। শীত হোক কিংবা গ্রীষ্ম, বর্ষা -আমগাছের তলায় একমাত্র ভরসা ছাত্রছাত্রীদের। টানা সতেরো বছর থেকে অন্যের জমিতে আমগাছের তলায় ক্লাশ করলেও নজর নেই প্রশাসনের ! ফলে চরম দুর্দশার মুখে গ্রামের শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি। এমনই চিত্র লক্ষ করা গেলো মঙ্গলবার দুপুরে সুতি এক নম্বর ব্লকের আহিরন গ্রাম পঞ্চায়েতের আহিরন হাটপাড়া গ্রামে। এলাকার শিশুদের শিক্ষাদানের লক্ষ্যে ২০০০ সালে গড়ে তোলা হয় আহিরণ হাটপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। প্রি প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এই শিক্ষাকেন্দ্রে। প্রাথমিক ভাবে জায়গার অভাবে গ্রামবাসিদের ওলি গলিতে পড়াশুনার ব্যবস্থা শুরু হয়। কিন্তু এভাবে চলে আর কতদিন?তাই শীতকালে স্কুল চললেও গ্রীষ্ম বা বর্ষার সময় সমস্যায় মারাত্মক আকার ধারণ করে। । স্কুলের একটি কক্ষ নির্মাণ করানোর জন্য প্রধান শিক্ষকা বহুবার প্রশাসনের দরবারে ঘুরলেও কোন সুরাহা হয়নি । শেষ পর্যন্ত কক্ষ নির্মাণ এর আশা ছেড়ে গাছের তলাতেই আপাতত স্থায়ী স্কুল ভেবে পড়াশুনা করিয়ে চলেছেন দুই শিক্ষিকা। বছর খানেক আগে প্রধান শিক্ষক অবসরগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে প্রি প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেনী অবধি মোট মোট ৭৩ জন ছাত্রছাত্রী এবং দুই জন শিক্ষিকা দিয়েই চলছে পড়াশুনার কাজ। বেলা দশটা বাজলেই ছাত্রছাত্রীরা বস্তা নিয়ে হাজির। আমগাছের তলায় বসে পড়ে শুরু করে পড়াশোনা। শিক্ষিকারা ঠিক সাড়ে দশটা বাজতেই হাজির হয়ে যান। আমগাছটাই তাদের বোর্ডে পরিণত হয়েছে।কিন্তু এভাবে আর চলেই বা আর কতদিন? বছরের বেশিরভাগ দিনই ভালোভাবে ক্লাশ করাতে পারেননা শিক্ষিকারা। গরমের দিনে সকাল বেলা আমগাছের তলায় রোদ না পড়লেও বেলা গড়াতেই রোদের তেজে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ছুটি দিতে বাধ্য হন। আবার অন্যদিকে বর্ষার প্রায় বেশিরভাগটাই স্কুল বন্ধ থাকে।আবার খোলা থাকলেও বৃষ্টির ভয়ে ছাত্রছাত্রীরাও মেঘের সময় ঠিকঠাক ক্লাশ করতে আসে না।এবিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা চঞ্চলা বালা ঘোষ জানান, আমি ২০০৩ সালে এই শিক্ষালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসাবে যোগ দিই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব সামলাচ্ছি। যখন স্কুলে এসে যোগদান করেছিলাম তখন যেমন স্কুলের অবস্থা ছিলো ঠিক তেমনি এখনও একই অবস্থা রয়েছে। প্রশাসনকে কতবার বলা সত্বেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আমগাছের তলায় স্কুলের পড়াশুনার পাশাপাশি মিডডে মিলের রান্নাও অন্যের বাড়িতে করতে হয় আমাদের। বর্ষার সময় ভীষন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।প্রশাসন দ্রুত একটি ঘর করে দিলে সুবিধা হয়। অন্যদিকে গাছতলাতে বসে ক্লাশ করার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন সুতি এক নম্বর ব্লকের যুগ্ম বিডিও সুদীপ্ত কুমার বসু। তিনি জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। চরম সমস্যার মধ্য দিয়ে শিক্ষাকেন্দ্রটি চলছে। শিক্ষাকেন্দ্রটির জন্য খাসজমি পাওয়া গিয়েছে। বর্ষার পর শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটির ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
সূত্রঃ ntvwb
Reviewed by Dhuliyan City
on
06:35
Rating:
No comments: