Results for ঐতিহাসিক কথা

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব
সিরাজ-উদ-দৌলা (জন্মঃ- ১৭৩২ - মৃত্যুঃ- ২ জুলাই, ১৭৫৭)

আলীবর্দী খাঁ যখন পাটনার শাসনভার লাভ করেন, তখন তাঁর তৃতীয়া কন্যা আমেনা বেগমের গর্ভে সিরাজের জন্ম হয়। এ কারণে নবাব সিরাজের জন্মকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে আনন্দের আতিশয্যে নবজাতককে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি মাতামহের স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হতে থাকেন। সিরাজের পিতা ছিলেন জৈনুদ্দিন আহমেদ খান। ১৭৪৬ খ্রিষ্টাব্দে মারাঠাদের বিরুদ্ধে আলীবর্দী খান -এর যুদ্ধের সময় কিশোর সিরাজদ্দৌলা তার সাথী হন। আলীবর্দী সিরাজদ্দৌলাকে বালক বয়সেই পাটনার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। সে সময় তাঁর হয়ে রাজা জানকীরাম রাজপ্রতিনিধিত্ব করতেন। কিন্তু বিষয়টি সিরাজদ্দৌলাকে সন্তুষ্ট করতে পারে নি। তাই তিনি একদিন গোপনে কয়েকজন বিশ্বস্ত অনুচরকে নিয়ে ভ্রমণের নাম করে স্ত্রী লুৎফুন্নেসাকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে বের হয়ে পাটনা উপস্থিত হন এবং জানকীরামকে তাঁর শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু নবাবের বিনা অনুমতিতে জানকীরাম তাঁর শাসনভার ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে দুর্গের দ্বার বন্ধ করে বৃদ্ধ নবাবের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দূত পাঠান। অন্যদিকে জানকীরামের আচরণে ভীষণ ক্ষুদ্ধ হয়ে সিরাজদ্দৌলা দুর্গ আক্রমণ করেন। উভয়পক্ষে লড়াই শুরু হয়ে গেলে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে আলীবর্দী খাঁ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সেদিনই আলীবর্দী খাঁ দুর্গের অভ্যন্তরস্থ দরবারে স্নেহভাজন দৌহিত্রকে পাশে বসিয়ে ঘোষণা দেন, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে সিরাজদৌল্লার নাম ঘোষণা করেন। ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হুগলী ভ্রমণ করেন। এ সময় ইংরেজ, ওলন্দাজ ও ফরাসি কোম্পানির প্রেসিডেন্টরা তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন। ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খান মুর্শিদাবাদে মৃত্যবরণ করেন। আলীবর্দী খান-এর পূর্ব ঘোষণা অনুসারে সিরাজদৌল্লা সিংহাসন লাভ করেন। সিংহাসন লাভের পর, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন তাঁর খালা ঘষেটি বেগম। সে সময় পুর্নিয়ার শাসনকর্তা ছিলেন শওকত জঙ্গ। সিংহাসন লাভের পর সিরাজদৌল্লা ঘষেটি বেগমের সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন। এরপর তিনি শওকত জঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। কিন্তু নবাবের আদেশ উপেক্ষা করে, কলকাতায় ইংরেজরা দুর্গ নির্মাণ করেছে, এই সংবাদ পেয়ে তিনি এই যুদ্ধযাত্রা বন্ধ করে ফিরে আসেন। ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দ সিরাজদ্দৌলা প্রায় ৩০ হাজার সৈন্যের একটি বিশাল বাহিনী নিয়ে ইংরেজেদের শায়েস্তা করার জন্য অগ্রসর হন। এই অভিযানে প্রথমে তিনি ১৭ই মে কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন। নবাবের বাহিনী ১৬ জুন ইংরেজদের ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ অবরোধ করে। দুই দিন যুদ্ধের পর, ১৯ জুনে ইংরেজ সেনাপতি এবং গভর্নর ড্রেক ইংরেজদের একটি বড় অংশকে সাথে নিয়ে পালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৭০ জন সৈন্য দুর্গে থেকে যায়। এই ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে হলওয়েল দুর্গের ভিতর থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু নবাবের বন্দুকধারী সৈন্যদের আক্রমণের মুখে অধিকাংশ ওলন্দাজ সৈন্য পালিয়ে যায় এবং নবাবের বাহিনীতে যোগদান করে। ২০ জুন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০ জন ইংরেজ সৈন্য নিহত এবং ৭০ জন আহত হয়। সন্ধ্যায় নবাবের সৈন্যরা দুর্গের দেওয়ালে সরাসরি কামানের গোলা নিক্ষেপ করতে সক্ষম হয়। এই সময় জনৈক ওলন্দাজ সৈন্য নদী মুখের দুর্গ তোড়ন খুলে দেয়। এই পথে নবাবের সৈন্যরা দুর্গে প্রবেশ করে। উপায়ন্তর না দেখে হলওয়েল আত্মসমর্পণ করে।
সিরাজদ্দৌল্লা মানিকচাঁদের হাতে কলকাতার শাসনভার অর্পণ করে ১২ই জুলাই তিনি মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন। এরপর ইংরেজ কাউন্সিল এ্যাডমিরাল ওয়াটসন ও রবার্ট ক্লাইভকে একটি নৌবহর কলকাতা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রেরণ করেন। এই সময় নবাবের কোনো বড় সেনাবাহিনী কলকাতায় ছিল না। ফলে ক্লাইভ প্রায় বিনাযুদ্ধে কলকাতা জয় করেন। এই সংবাদ পাওয়ার পর, সিরাজদ্দৌল্লা ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় বারের মতো কলকাতা আক্রমণ করেন। কয়েকদিন যুদ্ধের পর, উভয় পক্ষ শান্তি আলোচনায় সম্মত হন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি উভয়ে পক্ষের ভিতর সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। একে আলীনগর সন্ধি নামে অভিহিত করা হয়। এই সন্ধির শর্তানুসারে, নবাব দিল্লির সম্রাটের দেওয়া সকল বাণিজ্যিক সুবিধা ইংরেজদের দেন। কলকাতায় দুর্গ নির্মাণে অনুমতি দেন। এবং কোম্পানি নিজের নামে মুদ্রা প্রচলনের অধিকার লাভ করে। কিন্তু ইংরেজরা এই সন্ধিপত্র মানা প্রয়োজন মনে করে নাই। ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নবাবের আদেশ লঙ্ঘন করে ইংরেজরা চন্দননগররের ফরাসি কুঠি আক্রমণ করে। এই সময় আহম্মদশাহ আবাদলী দিল্লি আক্রমণ করে লুটতরাজ করে। এতে শঙ্কিত হয়ে সিরাজদ্দৌল্লা ইংরেজদের সাথে নতুন যুদ্ধে যেতে সাহসী হন নি। ফলে সহজেই ইংরেজরা ফরাসী কুঠি দখল করে নেয়। পলাতক ফরাসিরা মুর্শিদাবাদে আশ্রয় নেয়। এছাড়া সিরাজ ইংরেজদের শায়েস্তা করার জন্য দাক্ষিণাত্যের  বুসির সাথে পত্রালাপ করেন। ইংরেজরা তাদের রাজত্ব কায়েম রাখার জন্য সিরাজকে অপসারণের জন্য দেশীয় ক্ষমতালোভীদের সাথে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই দলে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ যোগ দেয়। তারা সিরাজের পরিবর্তে মীরজাফরকে নবাব বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু করে। এই সময় মীরজাফর ছিলেন বাংলার প্রধান সেনাপতি। সিরাজ কর্তৃক ক্রমাগত অপমানের কারণে সে সিরাজের বিপক্ষে চলে যায়। ক্লাইভের কাছে এদের এই ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ পেলে, ক্লাইভ এদের সাহায্যদানে অঙ্গীকার করেন। ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে কুচক্রীদের সাথে ইংরেজদের দুটি চুক্তি হয়। এই চুক্তির একটি ছিল আসল, অপরটি জাল।
আসল চুক্তিতে ছিল, মীরজাফর নবাব হলে সিরাজ-প্রদত্ত সকল বাণিজ্যিক সুবিধা ইংরেজদের দেওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে ফরাসীদের বিতারিত করবে। সিরাজের কলকাতা আক্রমণের ফলে কলকাতাবাসীর যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা প্রদান করা হবে। এই চুক্তির সময় উমিচাঁদের স্বার্থের ব্যাপারটি বাদ দেওয়া হয়। উমিচাঁদ উপযুক্ত পুরস্কার না পেলে, এই ষড়যন্ত্রের কথা সিরাজ জানিয়ে দেবে এই হুমকি দিলে, আর একটি জাল পত্র তৈরি করা হয়। এই পত্রে উমিচাঁদের উপযুক্ত পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর, ক্লাইভ সামান্য অজুহাতে সিরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সিরাজ এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ২৩শে জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরের যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের পক্ষে সৈন্য ছিল প্রায় ৫০,০০০। নবাবের মূল বাহিনীতে ছিল ৫০টি কামান। ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে-এর অধীনে ছিল ৪টি কামান।
পক্ষান্তরে ইংরেজদের পক্ষে সৈন্য ছিল মাত্র ৩,০০০। কামান ছিল ৮টি। কিন্তু মীরজাফর, রায়দুর্লভ এই যুদ্ধে নিরপেক্ষ থেকে দর্শকের ভূমিকায় থাকেন। নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহনলাল এবং সিনফ্রে নামক ফরাসি সেনাপতি। যুদ্ধের প্রথমাবস্থায় নবাব বাহিনী জয়লাভ করে। এই সময় মীরজাফরের পরামর্শে নবাব যুদ্ধবিরতির আদেশ দেন। যুদ্ধ বিরতির সময়, ইংরেজরা আকস্মিক আক্রমণ করলে, নবাবের সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। সিরাজ কোনোক্রমে রাজধানীতে ফিরে এসে অর্থ বিতরণ করে সৈন্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। এরা অর্থগ্রহণ করে নবাবের সাহায্যের পরিবর্তে আত্মগোপন করে। পরে নিরুপায় হয়ে সিরাজৌদ্দালা স্ত্রীকন্যাকে সাথে নিয়ে রাজধানী ত্যাগ করেন। রাজমহলের কাছে সিরাজ সপরিবারের ধরা পড়েন। এরপর মীরাজাফরের  পুত্র মীরনের নির্দেশে সিরাজকে হত্যা করা হয়। এরপর ইংরেজরা বাংলার সিংহাসনে মীরজাফরকে অধিষ্ঠিত করেন।

সাড়ে চারশ’ দিনের ঘটনাপ্রবাহ (সংক্ষেপিত) 
১৭৫৬ সাল : নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু। বাংলার মসনদে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আরোহণ। সিরাজউদ্দৌলার বয়স তখন মাত্র তেইশ বছর।

১৭৫৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ : ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অজুহাতে বাংলায় ইংরেজ ও ফরাসিদের দুর্গ নির্মাণ। নবাবের আদেশে ফরাসি দুর্গ নির্মাণ বন্ধ হলেও ইংরেজদের দুর্গ নির্মাণ অব্যাহত।

১৬ মে, ১৭৫৬ সাল : বিদ্রোহী শওকত জঙ্গকে দমনের উদ্দেশে পুর্নিয়ায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার সামরিক অভিযান।

২০ মে, ১৭৫৬ সাল : নবাব সিররাজউদ্দৌলা রাজমহল পৌঁছেছেন। গভর্নর ড্রেকের চিঠি হস্তগত। চিঠিতে দুর্গ নির্মাণ বন্ধের কোনো কথা নেই।

১৬ জুন, ১৭৫৬ সাল : ক্রুদ্ধ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পুর্নিয়া না গিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে এলেন। কলকাতায় ইংরেজদের দমনের উদ্দেশে সসৈন্যে যাত্রা। পথে কাশিমবাজার কুঠি দখল।

২০ জুন, ১৭৫৬ সাল : কলকাতার দুর্গ নবাব সিরাজউদ্দৌলার দখলে। গভর্নর ড্রেক ও অন্যান্য ইংরেজদের পলায়ন। গভর্নর হলওয়েলের আত্মসমর্পণ।

১৬ অক্টোবর, ১৭৫৬ সাল : পুর্নিয়ার নবাবগঞ্জে বিদ্রোহী শওকত জঙ্গের সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার যুদ্ধ। যুদ্ধে শওকত জঙ্গ পরাজিত ও নিহত।

১৫ ডিসেম্বর, ১৭৫৬ সাল : মাদ্রাজ থেকে ক্লাইভ ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের অধীনে একদল সৈন্যের ফলতা আগমন ও ড্রেকের সঙ্গে যোগদান।

২৭ ডিসেম্বর, ১৭৫৬ সাল : ইংরেজ সৈন্য ও নৌবহরের কলকাতা অভিমুখে যাত্রা

২ জানুয়ারি, ১৭৫৭ সাল : ইংরেজদের কলকাতা পুনর্দখল।

৩ জানুয়ারি ১৭৫৭ সাল : দখলদার ইংরেজ বাহিনীর আগমনের সংবাদ পেয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা অভিমুখে যুদ্ধযাত্রা।

১০ জানুয়ারি, ১৭৫৭ সাল : রবার্ট ক্লাইভ হুগলি শহর দখল করে লুটতরাজ শুরু করে। পার্শ্ববর্তী গ্রাম জনপদ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়।

১৯ জানুয়ারি, ১৭৫৭ সাল : নবাব সিরাজউদ্দৌলার হুগলি আগমন। ইংরেজদের কলকাতা প্রস্থান।

৩ ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭ সাল : নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতার শহরতলী আমির চাঁদের বাগানে শিবির স্থাপন করেন।

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭ সাল : নবাব সিরাজউদ্দৌলার শিবির আক্রমণ করে ক্লাইভ ও ওয়াটসন শেষ রাতে সিরাজবাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে ক্লাইভ পিছু হটেন।

৯ ফেব্রুয়ারি, ১৭৫৭ সাল : নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজদের আলীনগরের সন্ধি

২৩ মার্চ ১৭৫৭ সাল : ক্লাইভ কর্তৃক ফরাসি ঘাঁটি ও বাণিজ্য কেন্দ্র চন্দন নগর দখল।

২৩ জুন, ১৭৫৭ সাল : ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীর সঙ্গে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ।
পলাশীর যুদ্ধ , ২৩ জুন ১৭৫৭
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষ
১। সৈন্যসংখ্যা ৫০ হাজার।                            
এর মধ্যে পদাতিক ৩৫ হাজার,                                
অশ্বারোহী ১৫ হাজার                                           
২। মোট কামান ৫৩ টি
৩। ফরাসি সেনাপতি মঁসিয়ে দ্য সিনফ্রের অধীনে
৪ টি কামান ও ৪৫ জন ফরাসী সৈন্য।

রবার্ট ক্লাইভের পক্ষ
১। সৈন্য সংখ্যা ৩ হাজার
এর মধ্যে ভাড়াটে দেশীয় সিপাহি ২১০০, ইউরোপীয়ান- ৯৫০ জন, ১৫০ জন গোলন্দাজ,
২। মোট কামান ৬ টি
৩। মীরজাফর

যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি মীরজাফরের চক্রান্তে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে। মীরমদন ও মোহন লাল তাদের অধীন স্বল্পসংখ্যক সৈন্য নিয়ে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

২৬ জুন, ১৭৫৭ সাল : নবাব হিসেবে মীরজাফর আলী খানের অভিষেক।

২৯ জুন, ১৭৫৭ সাল : মীরজাফরের সিংহাসনে আরোহণ

৩০ জুন, ১৭৫৭ সাল : রাজমহলে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার।

২ জুলাই, ১৭৫৭ সাল : শৃঙ্খলিত অবস্থায় নাবব সিরাজউদ্দৌলাকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন। রাতে মীরজাফরের পুত্র মীরনের আদেশে ঘাতক মোহাম্মদী বেগের ছুরিকাঘাতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মৃত্যু বরণ করেন।

সংগৃহিত

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব Reviewed by Dhuliyan City on 10:18 Rating: 5

ভারতের এক নিষিদ্ধ দ্বীপ সেন্টিনেল


ভারতের একমাত্র নিষিদ্ধ ও ভয়ঙ্কর দ্বীপ সিন্টিনেল। আসুন জেনে নিই এই দ্বীপের বাসিন্দাদের কিছু কথা ।

পোর্ট ব্লেয়ার থেকে দূরে আন্দামানও নিকোবরের অধীন একটি দ্বীপ নর্থ সেন্টিনেল। কিন্তু তাও এই দ্বীপে আধুনিক সমাজের লেশমাত্রও পৌঁছতে পারেনি। এই দ্বীপে প্রবেশের অনুমতিও নেই কারও। কেন জানেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টিনেল দ্বীপে থাকে সম্ভবত বিশ্বের শেষ উপজাতি যাঁদের উপরে এতটুকু ছাপ ফেলতে পারেনি আধুনিক সমাজ। সেন্টিনেল উপজাতিদের জীবনযাত্রা ঠিক কী রকম তা কারও জানা নেই। খুব কমই জানা গিয়েছে তাঁদের সম্পর্কে। কারণ তাঁরা নিজেদের রাজ্যে বাইরের জগতের নাক গলানো একেবারেই সহ্য করেন না।
নৌকা বা হেলিকপ্টার থেকে বছরের পর বছর নজর রেখে তাঁদের সম্পর্কে খুব সামান্য ধারণা করতে পেরেছেন নৃতত্ত্ববিদরা। জানা গিয়েছে, সর্বাধিক ৪০০ জন বাসিন্দা রয়েছেন এখানে। তাঁরা আগুনের ব্যবহারও জানেন না। শেখেননি চাষাবাদও। ৬০ হাজার বছর ধরে তাঁরা এখানেই রয়েছেন।
বিশ্বের অন্যান্য যে সমস্ত উপজাতি আছে, তাঁদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা সেন্টিনেলরা। এঁরা একে অপরের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলেন, তা তাঁদের সবচেয়ে কাছের উপজাতির পক্ষেও বোঝা অসম্ভব। মনে করা হয়, এই আদিম মানুষেরা আফ্রিকা থেকে এসেছিলেন এই দ্বীপে।  আধুনিক সমাজের সঙ্গে এঁদের যোগ স্থাপনের চেষ্টা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। তার আভাস পাওয়া যায়, মার্কোপোলোর একটি লেখায় এই দ্বীপের উল্লেখ থেকে। (যদিও আদৌ তিনি ওই দ্বীপে নেমেছিলেন কি না তা নিয়ে ধন্দ আছে ইতিহাসবিদদের।)
১৮৮০ সালে ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এম ভি পোর্টম্যানের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে যান। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপনের বদলে তাঁরা উপজাতিদের এক প্রৌঢ় দম্পতি এবং চার শিশুকে তুলে নিয়ে আসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক সমাজের সঙ্গে তাঁদের মেলবন্ধন। কিন্তু আধুনিক সমাজে মানাতে না পেরে রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যান তাঁরা। এই ঘটনার পর আধুনিক সমাজের প্রতি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সেন্টিনেলরা।
১৯৬৭ সালে থেকে ভারত সরকার যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু করে। ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ত্রিলোকনাথ পণ্ডিতই প্রথম যিনি ১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি আন্দামান-নিকোবরের এই দ্বীপে গিয়ে সেন্টিনেলদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই চেষ্টা সার্বিকভাবে সফল হয়নি বলা যায়। কারণ এই চেষ্টার পরও ওই উপজাতিরা আধুনিক মানুষকে তাঁদের রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেননি। বারবারই তাঁদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে আধুনিক মানুষকে। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের।
২০০৪ সালে সুনামির পর হেলিকপ্টারে উত্তর সেন্টিনেল আইল্যান্ডে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিল ভারত সরকার। তখনও ত্রাণ নেওয়ার বদলে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে অতর্কিতে পাল্টা আক্রমণ চালান তাঁরা। অবশেষে তাঁদের বিরক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। ওই দ্বীপ এবং তার চারপাশে ৩ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সীমানা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
          -------- সংগৃহীত

ভারতের এক নিষিদ্ধ দ্বীপ সেন্টিনেল ভারতের এক নিষিদ্ধ দ্বীপ সেন্টিনেল Reviewed by Dhuliyan City on 10:19 Rating: 5

নিমতিতাবাসিদের জন্য আজ একজন মহামানবের পরিচিতি...

21:23

অস্থির ভাবে পায়চারি করছিলেন রাজা। বড় হতাশ লাগছে তাঁর। মানুষই যদি বিরোধিতা করে, তাহলে তিনি লড়বেন কাদের নিয়ে? আর করবেনই বা কাদের জন্য? ধুস, আর লড়াই করে লাভ নেই।
এমন সময় দারোয়ান এসে বলল একজন গেঁয়ো ব্রাহ্মন দেখা করতে চাইছে। একটু বিরক্ত হয়ে তিনি বললেন, এখন আমার সময় নেই বলে দে। দারোয়ান বলল, বলেছি। কিন্তু উনি যেতে চাইছেন না। তখন রাজা বললেন, পাঠিয়ে দে।
এক ব্রাহ্মন ঘরে ঢুকলো। খাটো ধুতি, গায়ে নামাবলি, মাথায় টিকি। টিকি দেখলেই রাজার মাথাটা যায় গরম হয়ে। রুক্ষ স্বরে বললেন কী চাই? ব্রাহ্মন বলতে শুরু করলেন।
আমি নদীয়ার মহাদেব ভট্টাচার্য।থামলেন একটু,বোধহয় গুছিয়ে নিলেন একটু। আবার শুরু করলেন।জানেন,সেদিন ছিল বৈশাখ মাস। টোল থেকে ফিরতেই অপর্ণা এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো কোলে। জল দিলো, গামছা দিলো, বাতাস দিলো পাখা করে।আমার জন্য তার যতো চিন্তা।বাপে মেয়েতে আদর খাচ্ছি। তখন ওর মা ডাকলো ঘর থেকে। ভেতরে যেতে বলল, মেয়ের তো ৭ বছর বয়স হোল। আর কতদিন ঘরে বসিয়ে রাখবে? পাড়ায় যে কান পাতা দায়। আমি বললাম,পাত্র পাচ্ছি কই? যার কাছেই যাই। ১০০০ টাকার কমে পন নেবেনা কেউ। মন্দিরা ফিসফিস করে বলল, সবার তো কপাল সমান হয়না। কিন্তু জাত ধর্ম তো রাখতে হবে। কাল নদীপথে একজন কুলীন ব্রাহ্মন এসেছেন। বয়সটা বেশি। ৭০ এর ঘরে। কিন্তু বংশ উঁচু। ৫০ টাকায় কন্যা উদ্ধার করেন তিনি। আমাদের অপুকে ওর হাতে গৌরি দান করো। আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, না না এ হবেনা। কিন্তু সমাজের চাপতো বুঝি। বুঝি সংসারের চাপও। নিজের সঙ্গে অনেক লড়াই করে অপুর সাথে বিবাহ দিলাম। লাল চেলি, গয়না, আলতা, সিঁদুরে মেয়েকে আমার দেবীর মতো লাগছিলো। সে যে কী রূপ কী বলবো!! বোধয় বাপের নজরটাই লেগেছিল সেদিন।
পরদিনই মেয়েকে ছেড়ে জামাই বাবাজীবন আবার পাড়ি দিলেন নদীপথে। আরও কারোর কন্যা উদ্ধার করতে। বলে গেলেন আবার আসবো পরের বৎসর।
আমাদের বাপ মেয়ের আনন্দের জীবন চলছিলো বেশ। সারাক্ষন আমার পিছনে। সব কাজ শিখে গেলো। পারতো না শুধু রান্না। একদিন হাতে ফোস্কা পড়ে কী অবস্থা। আমি ওর মা কে বলে দিলাম, ওকে রান্নার কাজে লাগাবেনা। আগুনে ওর কষ্ট হয়। কী খুশি সেদিন মেয়ে। আমাকে জড়িয়ে ধরে কতো আদর।
আশ্বিন মাস গড়িয়ে যায়। পুজো আসছে, চারদিকে সাজো সাজো রব। আমি হাট থেকে মেয়ের জন্য লালটুকটুকে শাড়ি, আলতা সব নিয়ে এলাম। মেয়ে খুব খুশি। বলল ওঃ!! কখন যে পড়বো এইসব।বাবা, আমাকে রানীর মতো লাগবে, বলো? আনন্দে আমার চোখ ভিজে উঠলো। অভাবী সংসারে খুশি উপচে পড়লো।
ঠিক তার পরের দিন, জানেন ঠিক পরের দিন। সকাল দশটা হবে। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে লোক এলো পত্র নিয়ে। গতকাল নারায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় দেহ রেখেছেন। যথাবিহিত বিধি অনুসারে কন্যাকে সতী করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। ভেবেছিলাম, পত্র ছিঁড়ে ফেলবো। কিন্তু পত্রবাহক গ্রামের মাতব্বরদের জানিয়েই এসেছেন আমার বাড়ি। কোন উপায় ছিল না। রাজা বলে উঠলেন তারপর???
তারপর মেয়েকে সাজালাম। নতুন লাল চেলির শাড়ি, গয়না, আলতা, সিঁদুরে মেয়ে সেদিন অপরূপা। গ্রামে উৎসব, ঢাক বাজছে। এয়োরা সবাই ওর মাথার সিঁদুর,ওর আলতা নিচ্ছে। আর ও নিজে কী খুশি সেজেগুজে। ওর পছন্দের দধি মিষ্টান্ন এসেছে ঘর ভরে। জানেন, তার মধ্যেও ও সেসব আমাকে খাওয়াবে বলে ব্যস্ত। কথা বন্ধ হয়ে আসে ব্রাহ্মনের। চোখটা মুছে আবার শুরু করেন। খালি সে বুঝতে পারেনি উৎসবটা কিসের।
এরপর খবর এলো নদীর তীরে চিতা সাজানো সমাপ্ত। সতীমাতাকে নিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন কুলীন সমাজ। মেয়েকে কোলে নিয়ে চললাম। কাঁদিনি একটুও। ওকে বুঝতে দিতে চাইনি কিছুই। চিতার পাশে সমস্ত আনুষ্ঠানিক কাজ মিটলো। মেয়ে অবাক হয়ে দেখছিল সব। আগুন দেওয়া হোল চিতায়। দাউদাউ করে জ্বলে উঠলো চিতা। মেয়ে বলল বাবা, বাড়ি চলো। আগুনে আমার বড় ভয়। আমি বললাম, আমার গলাটা একবার ছাড় মা। কচি হাত দুটো গলাটা ছাড়তেই ছুঁড়ে দিলাম অগ্নিকুণ্ডে। আগুনের মধ্যে থেকে একটা রিনরিনে গলা পাওয়া গেল, বাবাআআআআআআআআ 😪😪।
সেই ডাক আমি ভুলতে পারিনি। তারপর থেকে একদিনও রাত্রে ঘুম হয়নি। উঠতে বসতে খেতে শুতে শুধু এক আওয়াজ। বাবাআআআআআআআ। আমি পারিনি তাকে বাঁচাতে। আপনি পারেন। পায়ে ধরি আপনার। মেয়েগুলাকে বাঁচান। কতো মেয়ে গ্রাম ঘরে আপনার মুখ চেয়ে আছে। আছি আমরা, মেয়ের বাপ মা রা। বলতে পারিনা সমাজের ভয়ে। কিন্তু আপনি পারবেন।
উঠে দাঁড়ালেন রাজা রামমোহন রায়। বললেন,আমায় আপনি শক্তি দিলেন। পারতে আমাকে হবেই। এখানে না হলে ব্রিটেন যাবো। প্রিভি কাউন্সিলে দরবার করবো। কথা দিলাম আপনাকে।
বাকিটা ইতিহাস। সেই যুগে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই লড়াই কতোটা কঠিন ছিল বলে বোঝানো যাবেনা। কলকাতার রাজ পরিবার থেকে ভারতের পণ্ডিত সমাজ সকলে ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কম নিন্দা অপমানের ঝড় বয়নি তাঁর ওপর দিয়ে। কিন্তু বটবৃক্ষের মতো অটুট ছিলেন তিনি। রামমোহন রায়, ভারতের 'প্রথম আধুনিক মানুষ'।
আজ২২মে তাঁর জন্মদিবস।
জন্মদিবসে প্রনাম জানাই তাকে।
হে মহামানব, প্রনমি তোমায়।



Source :- নিমতিতা_আমার_শহর facebook page

নিমতিতাবাসিদের জন্য আজ একজন মহামানবের পরিচিতি... নিমতিতাবাসিদের জন্য আজ একজন মহামানবের পরিচিতি... Reviewed by khokan on 21:23 Rating: 5

মে দিবসের কিছু কথা

23:54

১৮৮৬ সালের আগেও ১লা মে ছিল …কিন্তু তা সাধারণ দিনের মতোই…..

১৮৮৬ সালের আগে শ্রমিক দের অবস্থা কেমন ছিল..??..না কোন প্রশ্ন নয়…কোন জিজ্ঞাসা নয়..তা ইতিহাস…

আসুন আজ আমি ‘মে দিবস’ এক জন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি….সেই মানুষটির নাম (শ্রমিক)।

আমি শ্রমিক বলছি…….১৮৮৬ সালের আগে আমাদের প্রতিদিন কাজ করতে হত দৈনিক ১১থেকে ১৩ ঘন্টা কেও ভাবতো না….তারা পশু ও শ্রমিকে এক ভাবতো…..ও আমি ভুলে গেছি পরিচয় করিয়ে দিতে। তারা হলেন মহান,

আমাদের প্রভু আমারর দাস, তারা বাবু।কিন্তু আমরা কতদিন সহ্য করবো এই পাশবিক অত্যাচারের। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে হে মার্কেটে আমারা মিলিত হই মিছিল করে আপনার দিনেই (মে দিবস)।

একত্রিত হয়ে আমরা শ্লোগান তুলি ‘পুজিবাদী মানুষের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’…

দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবি মানতে হবে……মানতে হবে………..

আমরা সমবেত হই আগস্ট স্পীজ নামে এক জন মহান নেতার নেতৃত্বে……

এই একত্রিত সমাবেশকে আমাদের প্রভুরা ভয় পান……এতটাই দৃপ্ত শ্লোগান যে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন….

অর্তকীতে পুলিস গুলি চালায়…সাথে সাথে ১১ জন আমরা (শ্রমিকেরা)প্রাণ দিই…১৮৮৬ সালের ১লা মে দিনে

অনেকে জেলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়…বিচারে ৬ জনের ফাঁসি হয়…আগস্ট স্পীজ এরও ফাঁসি হয়…

তিনি তাঁর শেষ কথা বলে গেলে ফাঁসির মঞ্চে…. ‘আজ আমাদের এই নি:শব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে’…..

আমি শ্রমিক…মাহান নেতার জন্য একটিই গান গাই….

“ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান

আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান

আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? এর পর প্রায় তিন বছর কেটে গেছে……..

১৮৮৯ সালে ১লা মে, হে মার্কেট বর্বর ভাবে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্যারিসে সমাজতন্ত্রী ও শ্রমিক পার্টি ১লা মে দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন…

এর পর থেকেই সারা পৃথিবীতে শ্রমিক স্বাধীনতার ঝড় ওঠে….ধর্মঘটৈর মাধ্যমে মালিকপক্ষকে নতি স্বীকার করানো হয় বহু জয়গায়..

আমরা (শ্রমিকরা)বলে উঠি.. ‘শোকতপ্ত হয়ো না, সংগঠিত হও’…..

বহু রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করে….আজ দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবি স্বীকৃত..সপ্তাহে এক দিন ছুটি……

মে দিবস’আমি (শ্রমিক)আপনাকে ধন্যবাদ জানাই………।

ধন্যবাদ শ্রমিক বন্ধু…………কিন্তু আমি (মে দিবস)যদি প্রশ্ন করি সত্যই কি আপনি এখনো স্বাধীন….

আপনাদের মধ্য শিশু শ্রমের পরিমান কত….মহিলা শ্রমিক কতে…কত টাকায় বা আপনার মজুরি…কতক্ষণ একনো কাজ করতে হয়..

না আপনিও সঠিক বলতে পরবেন না….তাহলে আপনি নিজের চোখেই দেখে নিন আপনাদের অবস্থা….

আজকের বিশ্বায়নের যুগেও।

ওই যে শ্রমিক শিশু ওর বয়স কত??..আপনি কি সঠিক বলতে পারবেন…..

ওর এখন মায়ের কোলে খেলা করার কথা…

ওর তো এখন… পুতুল পুতুল খেলার কথা…..ও কেন ইট ভাঙে?? ও কেন পাথর বয়?

ওর তো এখোন স্কুলে যাবার কথা। ও এখানে কেন?

আমার কি এটাই কাজ?

মহিলারাও কেন কঠোর পরিশ্রম করেন…….

এই সব প্রশ্নের একটাই উওর….পেটের জ্বালা….

পেটের জ্বালায় কাঁদতে থাকে…..কাজ করতে করতে…বাবুরা খেতে দেয় না…।

তাহলে তাদের সরকার কেন দেখে না………কেন ওদের ভোট দেয়??

ওদের কোন দিন খাবার জোটে তো কোনদিন না……….

নিজেরাই জোগাড় করে উনুনের জ্বালানি।

কিন্তু ঘরে তো চাল নেই….ভাত খাবে কেমন করে….

তাই…………..

‘যে দিন ওদের ঘরে উনুন জ্বলে না, সেদিন ওদের পেট জ্বলে’…..পেটে গামছা বেঁধে থাকে খিদের জ্বালায়…

ভাবতে থাকে পরের দিন কাজ পাবোত?…..

ওরা প্রতিবাদ করে……..নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে রাজপথে মিছিল করে…..

নিজেদের অধিকার ছিলিয়ে নিতে…..ছিনিয়ে নিতে হবে নিজেদেরকেই……..

আর কেউ এদের মনে রাখে না………একমাত্র আমি ,মে দিবস এদের মনে রাখি……

চিরদিন মনে রাখব…….

মে দিবসের কিছু কথা মে দিবসের কিছু কথা Reviewed by khokan on 23:54 Rating: 5

কিংবদন্তী ‘ভবঘুরে’ অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন

কিংবদন্তী ‘ভবঘুরে’ অভিনেতা
চার্লি চ্যাপলিন (জন্মঃ- ১৬ এপ্রিল, ১৮৮৯ – মৃত্যুঃ- ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৭)

শিশুশিল্পী হিসেবে ইংল্যান্ডের ভিক্টোরিয়ান নাট্যমঞ্চ ও মিউজিক হলে তাঁর অভিনয়-যাত্রা শুরু হয়। চ্যাপলিন নিজের ছবিতে নিজেই অভিনয়, সংলাপ রচনা, পরিচালনা, প্রযোজনা এমন কী সঙ্গীত পরিচালনা পর্যন্ত করেছেন। চ্যাপলিন অভিনীত মুখ্য চরিত্র তাঁর নিজেরই সৃষ্ট ভবঘুরে দ্য ট্রাম্প। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগালে “শার্লট” নামে পরিচিত চ্যাপলিনের ট্রাম্প ভবঘুরে হলেও আদব-কায়দায় সংস্কৃতি এবং সম্মানবোধে অটুট। শার্লটের পরনে চাপা কোট, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, হাতে ছড়ি আর একমেবাদ্বিতীয়ম টুথব্রাশ গোঁফ। চ্যাপলিনের বর্ণময় ব্যক্তিজীবন তথা সমাজজীবন খ্যাতি - বিতর্ক দুইয়েরই নিম্ন থেকে শীর্ষবিন্দু ছুঁয়ে গেছে।

স্যার চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন ইষ্ট স্ট্রিট, ওয়ালওয়ার্থ, লন্ডনে জন্ম গ্রহণ করেন। চার্লি চ্যাপলিনের কোনো বৈধ জন্ম প্রমানপত্র পাওয়া যায়নি, তাই তার জন্ম নিয়ে সর্বদাই কুয়াশা রয়েছে। সংবাদ মাধ্যম নানা সময়ে নানা রকম তথ্য দিয়েছে তার জন্মস্থান সম্পর্কে। এমনকি তার চলচ্চিত্র জীবনের প্রথমদিকে চ্যাপলিন নিজেও একবার বলেছেন যে তিনি ফ্রান্সের ফঁতেউব্ল শহরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। ১৮৯১ সালের আদমশুমারী থেকে জানা যায় যে চার্লি তার মা হান্নাহ চ্যাপলিন এবং ভাই সিডনির সাথে ওয়ালওয়ার্থ, দক্ষিণ লন্ডনের বার্লো স্ট্রিটে থাকতেন, এটি কেনিংটন জেলার অন্তর্গত। ইতিমধ্যে তার পিতা চার্লস চ্যাপলিন জুনিয়ারের সাথে তার মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। চ্যাপলিনের শৈশব কাটে প্রচণ্ড দারিদ্র আর কষ্টের মাঝে আর তাই হয়তো তিনি উপলদ্ধি করতেন দেওয়া ও পাওয়াতে কী আনন্দ। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন যে বৃষ্টিতে হাঁটা খুবই ভালো কারণ এই সময় কেউ তোমার চোখের অশ্রু দেখতে পায় না। অত্যধিক দারিদ্রই চ্যাপলিনকে শিশু বয়সেই অভিনয়ের দিকে ঠেলে দেয়...তার মা-বাবা দুজনেই মঞ্চের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তাই এই পেশাতে আসাটাই তাঁর কাছে সহজ ছিল। চ্যাপলিন সেইসময়ের জনপ্রিয় লোকদল “জ্যাকসন্স এইট ল্যাঙ্কাসায়ার ল্যাডস” এর সদস্য হিসাবে নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এরপর ১৪ বছর বয়সে তিনি উইলিয়াম জিলেট অভিনিত শার্লক হোমস নাটকে কাগজওয়ালা বিলির চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সুবাদে তিনি ব্রিটেনের নানা প্রদেশে ভ্রমণ করেন ও অভিনেতা হিসাবে তিনি যে খুবই সম্ভাবনাময় তা সবাইকে জানিয়ে দেন ।

চার্লি চ্যাপলিনের চলচ্চিত্রসমূহ

কিস্টোন স্টুডিও
১৯১৪
Making a Living (ফেব্রু ২)
Kid Auto Races at Venice (ফেব্রু ৭)
Mabel's Strange Predicament (ফেব্রু ৯)
Between Showers (ফেব্রু ২৮)
A Film Johnnie (মার্চ ২)
Tango Tangles (মার্চ ৯)
His Favorite Pastime (মার্চ ১৬)
Cruel, Cruel Love (মার্চ ২৬)
The Star Boarder (এপ্রি ৪)
Mabel at the Wheel (এপ্রি ১৮)
Twenty Minutes of Love (এপ্রি ২০)
Caught in a Cabaret (এপ্রি ২৭)
Caught in the Rain (মে ৪)
A Busy Day (মে ৭)
The Fatal Mallet (জুন ১)
Her Friend the Bandit (জুন ৪) (চ্যাপলিনের একমাত্র সিনেমা যা হারিয়ে গেছে)
The Knockout (জুন ১১)
Mabel's Busy Day (জুন ১৩)
Mabel's Married Life (জুন ২০)
Laughing Gas (জুল ৯)
The Property Man (আগ ১)
The Face on the Bar Room Floor (আগ ১০)
Recreation (আগ ১৩)
The Masquerader (আগ ২৭)
His New Profession (আগ ৩১)
The Rounders (সেপ ৭)
The New Janitor (সেপ ১৪)
Those Love Pangs (অক্টো ১০)
Dough and Dynamite (অক্টো ২৬)
Gentlemen of Nerve (অক্টো ২৯)
His Musical Career (নভে ৭)
His Trysting Place (নভে ৯)
Tillie's Punctured Romance (নভে ১৪)
Getting Acquainted (ডিসে ৫)
His Prehistoric Past (ডিসে ৭)
এসানেই স্টুডিও
১৯১৫
His New Job (ফেব্রু ১)
A Night Out (ফেব্রু ১৫)
The Champion (মার্চ ১১)
In the Park (মার্চ ১৮)
A Jitney Elopement (এপ্রি ১)
The Tramp (এপ্রি ১১)
By the Sea (এপ্রি ২৯)
His Regeneration (মে ৭) (ক্যামিও: একজন কাস্টমার)
Work (জুন ২১)
A Woman (জুল ১২)
The Bank (আগ ৯)
Shanghaied (অক্টো ৪)
A Night in the Show (নভে ২০)
Burlesque on Carmen (ডিসে ১৮)
১৯১৬
Police (মে ২৭)
১৯১৮
Triple Trouble
মিউচুয়াল ফিল্ম করপোরেশন
১৯১৬
The Floorwalker (মে ১৫)
The Fireman (জুন ১২)
The Vagabond (জুল ১০)
One A.M. (আগ ৭)
The Count (সেপ ৪)
The Pawnshop (অক্টো ২)
Behind the Screen (নভে ১৩)
The Rink (ডিসে ৪)
১৯১৭
ইজি স্ট্রিট (জানু ২২)
The Cure (এপ্রি ১৬)
The Immigrant (জুন ১৭)
The Adventurer (অক্টো ২২)
ফার্স্ট ন্যাশনাল
১৯১৮
A Dog's Life (এপ্রি ১৪)
The Bond (সেপ ২৯)
Shoulder Arms (অক্টো ২০)
১৯১৯
Sunnyside (film)|Sunnyside (জুন ১৫)
A Day's Pleasure (ডিসে ১৫)
The Professor uncompleted
১৯২১
দ্য কিড (ফেব্রু ৬)
The Idle Class (সেপ ২৫)
১৯২২
Pay Day (এপ্রি ২)
১৯২৩
The Pilgrim (ফেব্রু ২৬)
ইউনাইটেড আর্টিস্ট্‌স
১৯২৩
A Woman of Paris (সেপ ২৬) (cameo)
১৯২৫
The Gold Rush* (জুন ২৬)
১৯২৮
The Circus (জানু ৬)
১৯৩১
City Lights (ফেব্রু ৬)
১৯৩৬
Modern Times (ফেব্রু ৫)
১৯৪০
The Great Dictator (অক্টো ১৫)
১৯৪২
The Gold Rush (মে ১৯)
১৯৪৭
Monsieur Verdoux (এপ্রি ১১)
১৯৫২
Limelight (অক্টো ১৬)
পরবর্তী প্রকাশনা
১৯৫৭
A King in New York (সেপ ১২)
১৯৫৯
The Chaplin Revue (সেপ ১)
১৯৬৭
A Countess from Hong Kong (জানু ৫) (ক্যামিও)
অন্যান্য
The Nut (মার্চ ৬, ১৯২১) (ক্যামিও: Chaplin impersonator)
Souls for Sale (মার্চ ২৭, ১৯২৩) (ক্যামিও: himself, celebrity director)
A Woman of the Sea (১৯২৬) (চ্যাপলিনের প্রযোজনা)
Show People (নভে ১১, ১৯২৮) (ক্যামিও: নিজ)
The Freak (১৯৬০ ও '৭০ এর দশক) (পরিকল্পিত, কিন্তু নির্মাণ করা হয়নি)
...............

সংগৃহিত

কিংবদন্তী ‘ভবঘুরে’ অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন কিংবদন্তী ‘ভবঘুরে’ অভিনেতা
চার্লি চ্যাপলিন Reviewed by Dhuliyan City on 23:42 Rating: 5
Powered by Blogger.