Results for পূজা-পার্বণ

মকর সংক্রান্তি কি? এবং কেন?

01:51

------অনেক ভারত, এক মকর সংক্রান্তি-----

ভারতে ‘বৈচিত্রের মাঝে ঐক্য’ নিয়ে আমরা অনেক কথা বলে থাকি, কিন্তু কথাটার সত্য অর্থ উপলব্ধি করতে চাইলে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। যেমন, এমন নানা উত্‌সব আছে, যেগুলির ঐতিহাসিক উত্‌স বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম, অথচ অনেক জায়গাতেই যেগুলি বছরের কোনও একটি সময়েই উদ্যাপিত হয়ে আসছে। আমরা আমাদের উত্‌সবগুলির ‘বহুমুখী বৈচিত্র’ উপভোগ করি, কিন্তু আমরা আবার একটা অলিখিত বোঝাপড়া করে নিয়েছি যে, কয়েকটি দিনের মধ্যেই আমরা সেই উত্‌সব করব। বিভিন্ন আঞ্চলিক উত্‌সবকে সময়ের দিক থেকে একটা শৃঙ্খলায় আনার এই প্রক্রিয়াটি প্রায় দুই সহস্রাব্দের নিরন্তর বিবর্তনের পরিণাম। এ বিষয়ে ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে। হোলি, দেওয়ালি, নবরাত্রি, দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সর্বভারতীয় উত্‌সবে এই প্রক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটে।

যেমন মকর সংক্রান্তি। সাধারণত ১৪ জানুয়ারি বা তার এক দিন আগে-পরে এই তিথি আসে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এই উত্‌সবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, তার মেয়াদও আলাদা হয়ে থাকে, কোথাও কোথাও চার দিন অবধি উত্‌সব চলে। বাংলায় পৌষ সংক্রান্তি, তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, গুজরাতে উত্তরায়ণ, অসমে ভোগালি বিহু, পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ ও জম্মুতে লোহ্রি, কর্নাটকে মকর সংক্রমণ, কাশ্মীরে শায়েন-ক্রাত। উত্তর ভারতের অন্যান্য অঞ্চল, ওডিশা, মহারাষ্ট্র, গোয়া, অন্ধ্র, তেলঙ্গানা এবং কেরলে মকর সংক্রান্তি নামটিই চলে, যদিও তার পাশাপাশি স্থানীয় নামেরও প্রচলন আছে, যেমন মধ্যপ্রদেশে সুকরাত বা বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের কোনও কোনও এলাকায় খিচড়ি পর্ব। অন্য দেশেও হিন্দুধর্ম প্রভাবিত উত্‌সবের বহুমুখী ঐক্য আছে, যেমন নেপালে এই সময়ে মাঘে সংক্রান্তি পালিত হয়, তাইল্যান্ডে সোংক্রান, কাম্বোডিয়ায় মোহা সোংক্রান, মায়ানমারে থিংইয়ান, লাওস-এ এর নাম হল পি মা লো।

কিন্তু এই দিনটির মাহাত্ম্যটা কী? রাশিচক্রের বিচারে এই তিথিটিতে সূর্য মকর রাশিতে (ক্যাপ্রিকর্ন) প্রবেশ করে। লক্ষণীয়, এখন এই তিথিটা পড়ছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৪ জানুয়ারির আশেপাশে, কিন্তু এক হাজার বছর আগে মকর সংক্রান্তি হত ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ, আবার এক হাজার বছর পরে সেটি ফেব্রুয়ারিতে সরে যাবে। এই তিথিতে বাংলা বছরের ‘অশুভ’ পৌষ মাসের অবসান হয়, আবহাওয়ার দিক থেকে দেখলে ধরে নেওয়া হয় যে, এর পর শীতের প্রকোপ কমে আসবে। ভারতের উত্তরের দেশগুলিতে ২২ বা ২৩ ডিসেম্বরের সময়টি খুব আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পালিত হয়, কারণ ওই সময়েই সূর্য উত্তরে যাত্রা শুরু করে, যার নাম সূর্যের উত্তরায়ণ, ফলে ঠান্ডা কমতে থাকে। এবং এটাই হল খ্রিস্টপূর্ব যুগের ইয়ুলটাইড উত্‌সব, পরে ক্রিসমাস যাকে গ্রাস করে নেয়!

আমাদের দেশে মকর সংক্রান্তির বিভিন্ন রূপের দিকে একটু ভাল করে তাকানো যাক। তামিলনাড়ুতে মহা ধুমধামে পোঙ্গল উদ্যাপন করা হয়, আমাদের হিসেবে পৌষ মাসের শেষ দিনে এর শুরু, চলে পরের মাসের (ওঁরা সেই মাসটিকে বলেন ‘থাই’) তৃতীয় দিন অবধি। তেলুগু অঞ্চলেও এই উত্‌সব চার দিনের, যদিও অন্য বেশির ভাগ অঞ্চলেই তা এক বা দু’দিনের ব্যাপার। পঞ্জাবের লোহ্রির মতোই তামিলরা প্রথম দিনে কাঠকুটো জড়ো করে আগুন জ্বালান এবং সেই আগুনে পুরনো কাপড়চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র আহুতি দেন: জীর্ণ পুরাতনকে বিসর্জন দিয়ে নতুনের আবাহন। পরের দিন দুধ আর গুড় মিশিয়ে চার মধ্যে নতুন ‘ভাজা’ চাল এবং মুগডাল ফোটানো হয়, যতক্ষণ না সেই দুধ উথলে ওঠে; এবং দুধ উথলে ওঠার জন্য এই দিনটিতে বাড়ির বউকে বকুনি খেতে হয় না, বরং তিনি অভিনন্দিত হন, কারণ দুধ ওথলানোকে শুভলক্ষণ বলে গণ্য করা হয়, তাই সবাই উচ্চকণ্ঠে ‘পোঙ্গালো পোঙ্গল’ বলে হর্ষ প্রকাশ করেন।

একটা ব্যাপার লক্ষ করার মতো। এই সময় পঞ্জাব থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত সব জায়গায় উত্‌সবের সময় গুড় এবং তিলের মিষ্টি থাকবেই থাকবে, কারণ আখ এবং তিলের ফসল এই মরসুমেই ঘরে ওঠে। কিন্তু কেরল বা পশ্চিমবঙ্গের মতো আর্দ্র জলবায়ুর এলাকাগুলিতে এই দুটি ফসলের কোনওটিই বিশেষ হয় না, তাই সেখানে অন্য অঞ্চলের তুলনায় সংক্রান্তির ধুমধাম কম। সত্যি বলতে কী, অনেক বাঙালিরই পৌষ সংক্রান্তির কথা তখনই মনে পড়ে, যখন তাঁরা দেখেন, প্রতিবেশী নানান রাজ্য থেকে দলে দলে মানুষ গঙ্গাসাগরের পথে চলেছেন। তবে হ্যঁা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরল, দুই রাজ্যেই নারকেলের মিষ্টি সংক্রান্তির সময় (এবং অন্য সময়েও) খুবই জনপ্রিয়— এক ধরনের রাজনীতি এবং তর্কপ্রিয়তা ছাড়াও এই দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল আছে বটে। বাংলায় আখের গুড়ের জায়গায় খেজুর গুড়ের বিশেষ প্রচলন, এবং সংক্রান্তিতে তাই তিলের নাড়ু ছাড়াও পুলিপিঠে, পাটিসাপটার খুব কদর।

অসমেও এই সময় নতুন ধান ওঠে, তাই উপবাস, ভোজ এবং বহ্ন্যুত্‌সবের মধ্যে দিয়ে জমে ওঠে ভোগালি বিহু। পঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত গোটা উত্তর ভারতে তিল, গুড় এবং দুধের মিষ্টান্নের পাশাপাশি অত্যন্ত জনপ্রিয় হল চাল, ডাল এবং মরসুমি সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি। আবার পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে আছে সুজির হালুয়া, আর তামিলনাড়ুর মতো কিছু রাজ্যে দুধ আর চালের পায়েস এবং মিষ্টি।

গোটা ভারতে, এমনকী বাংলা ও কেরলেও ‘গঙ্গাস্নান’-এর মহিমা অপার। ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র সুবিধেজনক বিধানও দিয়েছে: কোনও একটা স্থানীয় নদীকে ‘গঙ্গা’ হিসেবে চালিয়ে নেওয়া যায়। গরুবাছুরকেও পুণ্যস্নান করানো হয়, তারা সেটা পছন্দ করুক বা না করুক। কোথাও কোথাও তাদের শিং দুটো নানা রঙে রাঙিয়ে নেওয়া হয়, কিংবা রকমারি ফিতে, ছোট ছোট ঘণ্টি কিংবা পুঁতি দিয়ে সাজানো হয়। তাদের নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়, কোনও কোনও রাজ্যে গরুর গাড়ির রেসও হয়। তামিলনাড়ু আবার এক কাঠি এগিয়ে: সেখানে ষাঁড়কে বাগে আনার প্রতিযোগিতা হয়, তার নাম জাল্লিকাট্টু। স্পেনের ষাঁড়ের লড়াইয়ের সঙ্গে এর মিল আছে। ক্রুদ্ধ দুর্দান্ত ষাঁড়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে মানুষের শক্তি ও দক্ষতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু এই লড়াইয়ে মানুষ এবং প্রাণী, দুইয়েরই হতাহত হওয়ার ঘটনা লেগে থাকে, সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এই খেলাটি নিষিদ্ধ করেছে। তবে সামাজিক পরিসরে আইনের শাসন ভারতে প্রায়শই খুব শিথিল।

এই ভাবে মকর সংক্রান্তিতে বিভিন্ন অঞ্চলের রকমারি আচার-অনুষ্ঠান এসে মিশেছে এবং এটি একটি সর্বভারতীয় উত্‌সবে পরিণত হয়েছে। এমনকী গুজরাত বা কর্নাটকে এই সময় ঘুড়ি ওড়ানোর উত্‌সবও চলে। কিছু কিছু অনুষ্ঠান তো অনেক শতাব্দী ধরে চলে আসছে বলেই মনে হয়, যেমন এই সময়েই ওডিশার ভুঁইয়া জনজাতির মানুষ এবং বাংলার পশ্চিম প্রান্তের মানুষ টুসু উত্‌সব পালন করেন। মণিপুরে অনেকে তাঁদের পরম ঈশ্বর লিনিং-থোউয়ের কাছে প্রার্থনা করেন, এমনকী সুদূর অরুণাচল প্রদেশে চিন সীমান্তের কাছে ব্রহ্মকুণ্ডে রামায়ণ, মহাভারত ও কালিকাপুরাণের সূত্র ধরে দেবতার আরাধনা করা হয়, এই দিনটিতে সেখানে হাজার হাজার মানুষ আসেন। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় লোকনৃত্যের আসর বসে। এমনকী এখন সবরিমালার প্রসিদ্ধ হিন্দু মন্দিরে বিরাজিতা এক সময়ের বৌদ্ধ দেব শাস্তা এই দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের পুজো পান, সেই ভক্তেরা বিস্তর কৃচ্ছ্রসাধন করে তাঁর কাছে পৌঁছয়। প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দুধর্ম স্থানীয় ধর্মরীতির কাছ থেকে কতটা কী নিয়েছে এবং তারাই বা প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দুধর্মের কাছে কতটা কী পেয়েছে, বলা কঠিন। কিন্তু বিভিন্ন রীতি ও আচারকে মিলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ব্রাহ্মণ্যবাদ যে একটি বড় ভূমিকা নিয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জহর সরকার
প্রসার ভারতী-র সিইও।
২০১৬

মকর সংক্রান্তি কি? এবং কেন? মকর সংক্রান্তি কি? এবং কেন? Reviewed by khokan on 01:51 Rating: 5

কে এই দেবী বিপত্তারিণী, কী তাঁর মহিমা

11:06

বিপত্তারিণী মোট চার দিনের পুজো। দেবী কোথাও সিংহবাহিনী লক্ষীস্বরূপা, কোথাও চণ্ডী মূর্তির মতো। কোথাও বা দেবী কালিকাই পূজিতা হন বিপত্তরিণী রূপে।

আষাঢ়ে বাংলার অন্যতম উৎসব বিপত্তরিণী পুজো। তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এই উৎসবটির মতো জনপ্রিয়তা খুব কম উৎসবের রয়েছে। বিপত্তারিণী পুজোর দিন থেকে লক্ষ করুন, কত জন মানুষ হাতে লাল ডোরে দুব্বোঘাস বেঁধে তাগা ধারণ করেছেন। স্পষ্ট বুঝতে পারবেন, বাংলার সংস্কৃতির অন্তঃস্থলে ঠিক কতটা জায়গা অধিকার করে রয়েছেন এই দেবী।

এই জনপ্রিয়তা থেকে অনুমান করা যেতে পারে, বিপত্তারিণী একান্ত ভাবেই লৌকিক দেবী। কিন্তু সত্যিই কি তাই? ‘দেবীপুরাণ’ থেকে জানা যায়, বিপত্তারিণী বা সঙ্কটতারিণী দেবী দুর্গার ১০৮টি রূপের একটি। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত এই দেবীর পূজার বিধান রয়েছে।

বিপত্তরিণী বা সঙ্কটতারিণীর ব্রতে যে কাহিনিটি পাওয়া যায় তা এই প্রকার— বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখি ছিলেন। তিনি জাতে মুচি। এই মহিলা গোমাংস খেতেন। এই তথ্য কানে গেলে রানি কৌতূহলী হয়ে পড়েন। তিনি তাকে গোমাংস দেখাতে বলেন। মহিলা প্রথমে অরাজি হন। পরে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থ গোমাংস দেখান। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই সংবাদ রাজার কানে পৌঁছলে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের নীচে লুকিয়ে রাখেন এবং মা দুর্গাকে স্মরণ করতে শুরু করেন। রাজা এসে রানিকে তল্লাশ করেন। তাঁর বস্ত্র থেকে গোমাংস নয়, যা বেরিয়ে আসে তা একটি লাল জবা। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পূজা প্রচলিত হয়। দুর্গার এই রূপটি সাধারণত বিপদহন্তা হিসেবেই গণ্য।

কিন্তু আশ্চর্য বিষয়, তন্ত্রে এই দেবীর বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। ‘বিপত্তারিণী কথামৃতম’ বা ‘তারিণ্যুপনিষদ’ নামে এক তন্ত্রগ্রন্থের হদিশ পাওয়া যায়, যার রচয়িতা জনৈক জনার্দন ঠাকুর। জনার্দন নিজেকে রামরাম ঠাকুরের বংশধর বলে বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থে জনার্দন লিখেছেন, তাঁর মা হরিপ্রিয়া এই দেবীর কৃপা লাভ করেছিলেন। এ ছাড়াও ‘বিপত্তারিণীতন্ত্রম’ নামে আরও একটি পুথির খোঁজ পাওয়া যায়। কিন্তু এই গ্রন্থগুলি ঠিক কোন সময়ে রচিত, তা জানা যায় না।

দণ্ডী খাটছেন ভক্তরা। ছবি: শেলী মিত্রবিপত্তারিণী মোট চার দিনের পুজো। দেবী কোথাও সিংহবাহিনী লক্ষীস্বরূপা, কোথাও চণ্ডী মূর্তির মতো। কোথাও বা দেবী কালিকাই পূজিতা হন বিপত্তরিণী রূপে। মহিলাদের মধ্যেই ব্রতধারিণীর সংখ্যা অধিক। তাঁরা এদিন দণ্ডি খাটেন। শনি ও মঙ্গল বার দেবী পূজার কারণে বিপুল জনসমাবেশ ঘটে গঙ্গার ঘাটে, কালী মন্দির বা চণ্ডী মন্দিরে। পশ্চিম বাংলার দক্ষিণে রাজপুরে বিপত্তারিণী কালী মন্দিরে এই উপলক্ষে বিপুল জন সমাগম ঘটে।

দেবী লৌকিক হোন বা বৈদিক, তা নিয়ে আজ আর ভাবিত নন বাংলার সাধারণ মানুষ। বিশ্বাস আর ভক্তিকে সম্বল করে হাতে ধারণ করেন তাগা, দণ্ডী খাটেন, উপবাস করেন। বিপত্তারিণী বাংলার বর্ষার এক অনিবার্য অনুষঙ্গ আজ।  

সৌ:-এবেলা.ইন


কে এই দেবী বিপত্তারিণী, কী তাঁর মহিমা কে এই দেবী বিপত্তারিণী, কী তাঁর মহিমা Reviewed by khokan on 11:06 Rating: 5

ভোর রাত থেকে ছট পুজোর আরাধনা ভক্তরা

ধুলিয়ান ২৭ অক্টোবর :-  সারা দেশের জুড়ে পালিত হচ্ছে ছট পূজা , ছট পূজার বেশি মহত্ব বুঝা যায় বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ।
ঝাড়খন্ড ও বিহারের পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ,পশ্চিমবঙ্গের জেলা গুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা হচ্ছে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের নিকটবর্তী জেলা , মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে পালিত হচ্ছে ছট পুজো প্রতিবছরের মত এবছরও ছট পূজার  আরাধনা মেতে উঠেছে ধুলিয়ানের শহরের  ভক্তরা ।
আজ ভোর রাত থেকেই ধুলিয়ান গঙ্গা ছট পুজোর আরাধনায় ভক্তরা হাজির বহু ভক্ত। এই দিন ভোর থেকে কুয়াশায় ঢাকা আকাশ। কুয়াশাকে উপেক্ষা করে ভক্তদের ভির লক্ষ করা যায় । ছট পুজোকে কেন্দ্র করে ছট পুজোর আনন্দে মেতেছিল আট থেকে আশি সকলেই। ভোর থেকেই ধুলিয়ান গঙ্গায়  ঢাক ও বাজি পটকার আওয়াজে আনন্দে মেতেছিলেন সকলে।
সারাদিন উপবাস থেকে সুর্যস্ত্রের সময়ে ডালা ভর্তী অর্ঘ নিবেদন করা হয়। গোটা ফল ও নুন ছাড়া খাবার দেওয়া হয় কুলোর মধ্যে। আজ রাজ ভোর উপবাস থেকে সুর্য উঠার আগে আবাও গঙ্গা নদীর তীতে আবাও সবাই মিলে আসবেন এবং আরাধনা করবেন সুর্য দেবের। শুধু মাত্র হিন্দি ভাষী মানুষেরা নয় এই ছট পূজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মের ভক্তেরা এই ছট পূজোতে সামিল হন। কথায় আছে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন, কিন্তু সময় বদলেছে তাই বাঙালিদের মধ্যে এখন বেশ প্রভাব ফেলেছে ছটপূজা। রীতি মেনে প্রতিটি স্থানে চলছে ছটপূজা।
ভোর রাত থেকে ছট পুজোর আরাধনা ভক্তরা ভোর রাত থেকে ছট পুজোর আরাধনা ভক্তরা Reviewed by Dhuliyan City on 19:04 Rating: 5

ছট পূজা মানে কি ? এক নজরে জেনে নিন ?


ছট পুজো এমনই এক পার্বণ‚ যেখানে‚ যে দেবতাকে পুজো করা হয়‚ তাঁর উল্লেখ উৎসবের নামে সাধারণত করা হয় না|
এই পুজো আসলে সূর্য এবং তাঁর স্ত্রীদের উপাসনা| তবে তার নাম কেন হল ছট?
আসলে ছট শব্দটা প্রাকৃত  এসেছে সংস্কৃতের ষষ্ঠ শব্দ থেকে | দীপাবলীর ঠিক ৬ দিনপরে কার্তিক মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে পুজো করা হয় সূর্যদেবকে | তাই এর নাম ছট পুজো | 
ভারতের বিহার‚ ঝাড়খণ্ড এবং পড়শি দেশ নেপালের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল ছট |বিশ্বাস করা হয়‚ বৈদিক যুগের আগে থেকেই ছট পুজো বা সূর্য উপাসনার চল ছিল | 
         মহাভারতে পঞ্চ পাণ্ডব এবং দ্রৌপদী পালন করেছিলেন এই উৎসব|
     রামায়ণেও আছে রাম সীতার ছট পুজোর কথা| অর্ঘ্য অর্পণ করেকৃতজ্ঞতা জানানো হয় সূর্যদেব এবং তাঁর দুই স্ত্রী ঊষা আর প্রত্যুষাকে |দিওয়ালির চারদিন পর শুরু হয় মূল ছট পুজোর প্রাক পার্বণ | যাঁরা ব্রত রাখেন তাঁরা এদিন নদীতে অবগাহন(মূলত ভারতের গঙ্গা এবং নেপালের কোশী)করেন | তারপর শুদ্ধ ঘিয়ে রান্না করেন খিচুড়ি আর কুমড়ো সেটাই এদিনের খাবার | 
এর পরের দিন খেতে হয় ক্ষীর আর চাপাটি | সারাদিন উপবাসের পরে রাতে খেতে হয় সেটি |এ বার শুরু দীর্ঘ উপবাস | 
তৃতীয় দিন অর্থাৎ দীপাবলীর পর থেকে ষষ্ঠ দিন হল উৎসবের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ | ছট ব্রতীরা উপবাসে থেকে নদীতে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবতার উদ্দেশে ফল এবং অন্যান্য অর্ঘ্য উৎসর্গ করেন | প্রণাম করা হয় উদয়গামী আর অস্তগামী সূর্য ও তাঁর স্ত্রী ঊষা আরপ্রত্যুষাকে | চতুর্থ দিন একইভাবে অর্ঘ্য উৎসর্গ করার পরেই ব্রতীরা ভঙ্গ করেন উপবাস |বিশ্বাসীদের বিশ্বাস‚ ছটপুজোয় সব মনোকামনা পূর্ণ করেন সূর্যদেব | এমনকী‚ কুষ্ঠরোগীও নাকি সুস্থ হয়ে যায়| সংসারের মঙ্গলকামনায় গৃহিণীরাই এই পুজো করে থাকেন | কলা-সহ বিভিন্ন ফল‚ ঠেকুয়া‚ ক্ষীর আর মিষ্টি হল পুজোর প্রসাদ |

ছট পূজা মানে কি ? এক নজরে জেনে নিন ? ছট পূজা মানে কি ? এক নজরে জেনে নিন ? Reviewed by Dhuliyan City on 05:40 Rating: 5

ধুলিয়ান পৌর কর্মীদের রাখি পরিয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন ।

ধুলিয়ান ৭ আগষ্ট :- ধুলিয়ান পৌর কর্মীদের রাখি বন্ধন দিবস পালন।  রাজ্যবাপী জুড়ে চলছে রাখী বন্ধন উৎসব , পশ্চিমবঙ্গ
সরকারের যুবকল্যান ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে । আজ ধুলিয়ান পৌর যুবকল্যান ও ক্রীড়া দপ্তর উদ্যোগে রাখি বন্ধন সংস্কৃতি দিবস উদযাপন করা হয় । পৌরসভার প্রাঙ্গনে প্রথম বক্তা ছিলেন ধুলিয়ান পৌরসভার পৌরপিতা সুভল সাহা ও উপ- পৌরপিতা নূর ইসলাম খান( তোষি) অনেক অতিথি গণ ,পৌর কর্মী  মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ।রাখীবন্ধন উৎসব শুধুমাত্র একটি উৎসব নয় এটি একটি পবিত্রতার উৎসব রুপে পালন করা হয়। জানাযায় এই উৎসব টি চালু করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর। যাতে করে সবার মধ্যে মনের মেল বন্ধন গড়ে উঠে পাশাপাশি সবার মধ্যে একের অপরের প্রতি ভালবাসা, সম্প্রিতি গড়ে উঠে।  ধুলিয়ান স্কুলের ছাত্রীরা পৌরপিতা ও সকল অতিথি গনদের রাখি পরিয়ে ,রাখিবন্ধন উৎসবের সূচনা হয় ।

ধুলিয়ান পৌর কর্মীদের রাখি পরিয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন । ধুলিয়ান পৌর কর্মীদের রাখি পরিয়ে রাখিবন্ধন উৎসব পালন । Reviewed by Dhuliyan City on 02:44 Rating: 5

কাল রাখি উৎসব ,দাদাকে পড়াবো রাখি।

ধুলিয়ান ৬ আগষ্ট :- রাত ফুরলেই রাখি উৎসব শুরু হয়ে যাবে । সোশ্যাল মিডিয়াতে অবশ্য দিন কয়েক আগে থেকেই উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে । ফেসবুক , হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে একে অপরকে উইশ করছেন । ধুলিয়ান বাজারে  রাখি উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে । বাসস্ট্যান্ড সহ এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দোকানিরা বিভিন্ন ডিজাইনের রাখির পসরা সাজিয়ে বসেছেন । বিক্রেতারা জানালেন , রবিবার বলে আজ দিনের বেলা নয় দিনের তুলনায় ক্রেতা একটু কম । কিন্তু বিকেলের পর ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে । ধুলিয়ান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার  রাখির দোকানে গুলিতে বোনদের ভিড় দেখা দিয়েছে । রাখি কেনার ফাঁকে জানাল , “ কাল রাখি উৎসব । দাদাকে পড়াবো । তাই রাখি কিনতে এসেছি ।

কাল রাখি উৎসব ,দাদাকে পড়াবো রাখি। কাল রাখি উৎসব ,দাদাকে পড়াবো রাখি। Reviewed by Dhuliyan City on 08:16 Rating: 5

শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো : কাটবে দোষ, মিলবে পুণ্য

দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে, শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো করা যায়| সোমবার নাকি শিবের সবচেয়ে প্রিয় দিন বলা হয়, শ্রাবণ মাসের সোমবারে শিবের রুদ্রাভিষেক পুজো করলে ভক্তরা সুফল পান প্রচলিত বিশ্বাস, শ্রাবণ সোমবারে শিবের পুজো করলে শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক সমস্যা দূর হয় |
শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো করলে গ্রহদোষ কেটে যায়, বিশেষ করে শনির দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়,
সুস্বাস্থ্যের কামনায় অনেকেই শিবের পুজো করেন। বলা হয়, শ্রাবণ মাসে শিবের আরাধনা করলে গুরুতর রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় হিন্দু মতে শিবকে আদর্শ পুরুষ মানা হয়, তাই অবিবাহিত মহিলারা শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো করলে ভালো ফল পেতে পারেন মোক্ষলাভ এবং আত্মার মুক্তি লাভ সহজ হয় | সমস্ত আনুষঙ্গিক দ্রব্য সহযোগে পুজো করলে সংসারে সমৃদ্ধি ফেরে এবং আর্থিক লাভের সম্ভাবনা থাকে কোন ওরকম বিপদ, দুর্ঘটনা এবং অঘটনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়
প্রচলিত, শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার থেকে ব্রত শুরু করলে সমস্ত মনোস্কামনা পূর্ণ হয় |

শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো : কাটবে দোষ, মিলবে পুণ্য শ্রাবণ মাসে শিবের পুজো : কাটবে দোষ, মিলবে পুণ্য Reviewed by Dhuliyan City on 07:36 Rating: 5

কাশ্মীরের অনন্তনাগে অমরনাথ যাত্রীদের বাস লক্ষ্য করে গুলি জঙ্গিদের, নিহত ৭, আহত বহু

জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগে অমরনাথ যাত্রীদের ওপর জঙ্গিহানা। নিহত ৭ তীর্থযাত্রী এদের মধ্যে ৫ মহিলা ও ২ পুরুষ । ঘটনায় পাঁচ পুলিশকর্মী সহ আহত আরও আটজন।
পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন জেলার বাতেঙ্গু অঞ্চলে আচমকা তীর্থযাত্রীদের বাস লক্ষ্য করে হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মীদের ওপরও গুলিবর্ষণ শুরু করে তারা। যাত্রীরা সেই সময় বালতাল থেকে মির বাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। পথে খানাবাল চকের কাছে হামলা হয়।
হামলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে সিআরপিএফ-এর ৪০ ও ৯০ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। জঙ্গিদের খোঁজে গাটা এলাকা জুড়ে চিরুনি-তল্লাশি শুরু হয়েছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জঙ্গি কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুদিবসের জেরে কাশ্মীর উপত্যকায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় এদিন ত্রাল সহ তিন শহরে কারফিউ জারি করেছিল প্রশাসন। ফলে অমরনাথ যাত্রা স্থগিত রাখতে হয়েছিল।
ধুলিয়ান শহর সেই সব যাত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করি| RIP
সূত্র :- নিউজ

কাশ্মীরের অনন্তনাগে অমরনাথ যাত্রীদের বাস লক্ষ্য করে গুলি জঙ্গিদের, নিহত ৭, আহত বহু কাশ্মীরের অনন্তনাগে অমরনাথ যাত্রীদের বাস লক্ষ্য করে গুলি জঙ্গিদের, নিহত ৭, আহত বহু Reviewed by Dhuliyan City on 10:27 Rating: 5

কালীপুজো মানেই ‘বুড়িমার চকলেট বোম’। কে এই বুড়িমা জানেন কি? আসুন জেনে  নি তাঁর জীবনের লড়াই এবং সাফল্যের কাহিনী :

12:20

কালীপুজো মানেই ‘বুড়িমার চকলেট বোম’। কে এই বুড়িমা জানেন কি? আসুন জেনে  নি তাঁর জীবনের লড়াই এবং সাফল্যের কাহিনী :
—————————————————————————————————————————————————————

তিনি সবার বুড়িমা। বাবারও বুড়িমা, ছেলেরও বুড়িমা। আসলে বুড়িমার চকলেট বোম না হলে তো বাপ-ব্যাটা কারও কালীপুজোই জমত না। ডেসিবেলে বাজি মাপার আগে এই বঙ্গে তো বুড়িমাই শব্দবাজির সাম্রাজ্য চালাতেন।

সে একটা দিন ছিল বুড়িমার। এক পুজো থেকে আর এক পুজো বারো মাসই চাপ আর চাপ। তবে লক্ষ্মীপুজোর পরে চাঁদ যত ছোট হয়ে আসত তত দম ফেলার ফুরসৎ থাকত না তাঁর। ডজন, ডজন বাজি চাই। শুধুই কালীপুজো নাকি! ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচেও তো ‘বুড়িমা’-ই গর্জে উঠত।

এই সবার বুড়িমার আসল নাম অন্নপূর্ণা দাস। জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। দেশভাগ ভিটে ছাড়া করে নিয়ে আসে পূর্বতন পশ্চিম দিনাজপুর জেলার ধলদিঘি সরকারি ক্যাম্পে।

উদ্বাস্তুদের পার্মানেন্ট লায়াবিলিটি ক্যাম্প থেকে হাওড়া জেলার বেলুড়ে পার্মানেন্ট ঠিকানা হওয়ার মাঝে ছিল অনেক লড়াই। হ্যাঁ, সেই গরিব ঘরের লড়াকু মেয়েই পরবর্তী জীবনে সফল ব্যবসায়ী ‘বুড়িমা।’

স্বামী সুরেন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় পূর্ব পাকিস্তানে থাকার সময়েই। তার পরেই ওপার বাংলা ছেড়ে এই বঙ্গে আশ্রয় নেন তিন মেয়ে এক ছেলের মা অন্নপূর্ণা। তিনি  ১৯৪৮ সালে  ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ভারতে আসেন। অর্থাভাব কিংবা সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে রিফিউজি ক্যাম্পে চলে আসার গ্লানি তাঁকে হারাতে তো পারেইনি, উল্টে আরও লড়াকু করে তোলে। ধলদিঘির বাজারে রাস্তায় উচ্ছে, ঝিঙে, পটল, মুলো বিক্রি করে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন অন্নপূর্ণা।

ধলদিঘি থেকে এক সময়ে গঙ্গারামপুরে চলে যান অন্নপূর্ণা। তার আগে তিনি কিছুদিন বিড়ি বাঁধার কাজ করতেন। আর সেই কাজ করতে করতেই শুরু করে দেন বিড়ির ব্যবসা। একদিন সত্যিই স্বপ্নের মতো তাঁর নিজের বিড়ি কারখানা গড়ে ওঠে।

কিন্তু বেশিদিন সেখানেও থাকা হয়নি। মেয়ের বিয়ে দিলেন হাওড়ার বেলুড়ে। সেই সূত্রে বেলুড়ের প্যারিমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে একটা দোকান-সহ বাড়িও কিনলেন। এ বার ব্যবসাও বাড়ল। বিড়ির সঙ্গে যুক্ত হয় আলতা, সিঁদুরের ব্যবসা। শুধু কি তাই! বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি, দোলের রং, কালীপুজোর বাজি এমন ছোটখাটো নানা ব্যবসাই শুরু করেন। তবে তখন নিজে তৈরি করতেন না, অন্যের থেকে কিনে এনে বিক্রি করতেন।

ততদিনে তিনি রীতিমতো বুড়ি হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ব্যবসা করার ক্ষেত্রে তাঁর উৎসাহ তারুণ্যকে হার মানাবে। এই সময়েই নাকি তাঁর দোকানে এসে অনেকে অন্নপূর্ণাদেবীকে ‘বুড়িমা’ বলে সম্বোধন করতেন। আর তার পরেই কেমন করে যেন তিনি সবার ‘বুড়িমা’ হয়ে যেতে থাকেন। 

এক সময়ে অন্নপূর্ণাদেবী দেখলেন বাজি কিনে বিক্রির থেকে অনেক বেশি লাভ বাজি তৈরি করে বিক্রি করতে পারলে। সরকারি নিয়ম মেনে শুরু করেন বাজি কারখানা। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজেই খোঁজ করে নিয়ে আসেন বাজির কারিগরদের। নিজের নতুন নামেই তৈরি করলেন ব্র্যান্ড। ‘বুড়িমা’ হয়ে উঠল বাজির জগৎ-এ এক বিখ্যাত নাম। ব্যবসা বাড়তে লাগল। এক সময়ে ছেলে সুধীরনাথও যুক্ত হলেন মায়ের ব্যবসায়ে। তত দিনে তিনি নানা রকমের আতসবাজি বানানো শুরু করেছেন, কিন্তু বিখ্যাত হয়ে যায় ‘বুড়িমার চকলেট বোম।’

এর পরেও থমকে যাননি বুড়িমা মানে অন্নপূর্ণা দেবী। অন্ধ্রপ্রদেশের শিবকাশীতে একটি দেশলাই কারখানা তৈরি করেন। এই রাজ্যে ডানকুনিতে চলতে থাকে তাঁর বাজির কারখানা। ব্যবসায় আসেন নাতিরাও।

এখন শব্দবাজি নিয়ে অনেক কঠোর প্রশাসন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার শব্দবাজির তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। কিছুটা হলেও থমকে যায় ‘বুড়িমা’-র চাহিদা। কিন্তু সেই দিন দেখতে হয়নি অন্নপূর্ণদেবীকে। কারণ, তার ঠিক আগের বছরেই চোখ বুজেছেন তিনি। বাঙালি মেয়ে হিসেবে ব্যবসায় সাফল্যের এক অনন্য নজির গড়েছেন অন্নপূর্ণা দাস। তৈরি করেছেন এক সত্যিকারের রূপকথা।
Copyright to Dr malabika roy fb profile

কালীপুজো মানেই ‘বুড়িমার চকলেট বোম’। কে এই বুড়িমা জানেন কি? আসুন জেনে  নি তাঁর জীবনের লড়াই এবং সাফল্যের কাহিনী : কালীপুজো মানেই ‘বুড়িমার চকলেট বোম’। কে এই বুড়িমা জানেন কি? আসুন জেনে  নি তাঁর জীবনের লড়াই এবং সাফল্যের কাহিনী : Reviewed by khokan on 12:20 Rating: 5
Powered by Blogger.