পলাশীর যুদ্ধের আগে মুর্শিদাবাদে ইংরেজদের সেনা নিবাস কোথায় ছিল জানা যাক ?

পলাশীর যুদ্ধের আগে মুর্শিদাবাদে ইংরেজদের সেনা নিবাস ছিল তত্‍কালীন চুনাখালির নিকটবর্তি মাদাপুরে।পলাসীর যুদ্ধের পর এক অজানা আতঙ্কে পরবর্তী তিনদিন ক্লাইভ কোম্পানির পুরানো সেনানিবাস মাদাপুরেই থেকে গিয়ে ছিলেন সমস্ত সৈন্য সমেত,তার পর প্রবেশ করেছিলেন রাজধানীতে।
পলাশী যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে পূর্ব কথামতো নবাবের কোষাগার থেকে কোম্পানির সৈন্য ভাড়া বাবদ প্রচুর অর্থ প্রদান করা হয়।সাথে বেশ কিছু ভূখন্ড এবং কিছু সমৃদ্ধ পরগণার জমিদারি কোম্পানিকে দিতে বাধ্যহয় নবাব।ক্লাইভের অনুরোধে নতুন নবাব মীরজাফর রাজধানীর নিকটবর্তী বহরমপুরে কোম্পানিকে তাদের সেনানিবাস তৈরীর জন্য ভূখন্ড দান করেন।হান্টারের মতে ১৭৬৭ সালে প্রাথমিক ভাবে ৪০০ বিঘা জমির উপর এই সেনা নিবাস নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়।খরচ হয় প্রায় ৩,০২,২৭০ পাউন্ড।সম্পূর্ণ ব্যারাকটির নক্সা একেছিলেন ইন্জিনিয়ার কর্নেল এ.ক্যাম্পবেল।
১৭৮৬সালে সিয়ার উল মুতাক্ষরীনে বর্ণনা করা হয়েছে যে বহরমপুরের ব্যারাক সুন্দরতম এবং সর্বকৃষ্ট সাস্থ্যকর জায়গা।যে কোন জাতি দেশ এই জায়গার জন্য গর্ব অনুভব করতে পারে।এই ব্যারাকে দুই রেজিমেন্ট ইউরোপীয় সৈন্য,সাত থেকে আট রেজিমেন্ট সিপাহী এবং পনেরো ষোলটি কামান ছিল।এই সেনা নিবাসকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে বহরমপুর শহর।বর্তমানের স্কোয়ার ফিল্ড সেই ব্যারাকের সাক্ষী বহন করে চলেছে।এই মাঠের পূর্বদিকে তিনটি দ্বিতল বাড়ি সাধারণ সৈনিকের বসবাসের জন্য নিদৃষ্ট ছিল,উওর ও দক্ষিন দিকের বাড়ি গুলিতে বসবাস করতেন নিন্মপদস্থ আধিকারীকগন অন্যদিকে পশ্চিমদিকের বাড়ি গুলিতে বসবাস করতেন প্রধান সেনাধাক্ষ্য ও উচ্চ পদস্থ আধিকারীকরা।এই ব্যারাক স্কোয়ারের উওর পূর্ব কোণে ছিল একটি ইউরোপীয়ান ক্লাভ এবং চার্চ এছাড়া মাঠের উওর পশ্চিম কোণে ছিল অস্ত্রাগার যা অতিসম্প্রতি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
আজ তেমন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তবুও মাঠটি রয়েগেছে, আর আছে মাঠের চারকোণে চারটি কামান যা পুরানো স্মৃতিকে উসকে দেয়।
(এই সেনা ব্যারাকেই জ্বলেছিল প্রথম মহাবিদ্রোহের আগুন।সে গল্প শোনাব পরের কোন এক পোষ্টে।)

পলাশীর যুদ্ধের আগে মুর্শিদাবাদে ইংরেজদের সেনা নিবাস কোথায় ছিল জানা যাক ? পলাশীর যুদ্ধের আগে মুর্শিদাবাদে ইংরেজদের সেনা নিবাস কোথায় ছিল জানা যাক ? Reviewed by Dhuliyan City on 23:05 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.