বিশ্ববিদ্যালয় :- বাংলা সাম্মানিক স্নাতক শেষ করার পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরের ফর্ম তুলতে কলকাতা গেছি। সেটি ছিল সম্ভবত আমার দ্বিতীয় কলিকাতা যাত্রা। সে এক চরম অভিজ্ঞতা। সে সময় স্যার বলেছিলেন, এটাই তোমাদের শেষ কলকাতা যাওয়া। এবার থেকে মুর্শিদাবাদেইই কে এন কলেজে স্নাতকোত্তর পড়ানো হবে, ও কে এন কলেজ ক্যাম্পাসে ইউনিভারসিটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। #
এরপর পাশের ভাগীরথী দিয়ে হাজার হাজার কিউসেক জল গড়িয়েছে, না আজ পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। নিজের জেলা শহরে ইউনিভারসিটি থাকা কত যে প্রয়োজন - আমার মত মফস্বলের চূড়ান্ত ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারবেন। সেই রাত দুটো তিনটেই উঠে ট্রেন ধরতে যাওয়া - আরও আরও প্রতিবন্ধকতা আছে। ছেলেদেরা তো কোনোরকমে চালিয়ে নিতে পারে, মেয়েদের সমস্যা হত সবচেয়ে বেশি। তাছাড়াও জেলার বাইরে থেকে পড়াশোনা চালানোর অর্থ সবার থাকেনা। অর্থএর জন্যও অনেক মেধাবী ছাত্রকে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছে।নিজের জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় থাকেলে এই সমস্যা হয়না। #
যত দিন যাচ্ছে তত মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জোরালো হচ্ছে। এই দাবি কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদীর দাবি নয়।এই দাবি অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। জনসংখ্যার দিক থেকেও এই জেলা রাজ্যে চতুর্থ। লোকেশনের দিক থেকেও উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গএর মাঝামাঝি। বর্তমান রাজ্যে ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়।
কোথাও কিন্তু মুর্শিদাবাদের নাম নেই। মজার ব্যাপার ও সবচেয়ে বড় প্রহসন হল রাজনৈতিক স্বার্থএ মুর্শিদাবাদে একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলা হয়েছে। সেইটিকে দেখিয়ে অনেকে বলেন মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মুর্শিদাবাদের বৃহত্তর ছাত্র সমাজের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ, ওই শাখায় যে দুটি বিষয় পড়ানো হয়, তার এক শতাংশও বোধহয় এই জেলার ছেলেরা পড়েনা। কোনও জেনারেল স্টাডিজ এখানে হয়না। সেদিক থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয় বোধহয় মুর্শিদাবাদবাসীর কাছে অভিশাপ হয়ে উঠবে। কারণ, ওই শাখাটিকে দেখিয়ে বছরের পর বছর কেটে যাবে, প্রশাসন মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়বেনা। কূটনৈতিক রাজনীতির এই রাজনৈতিক সুকৌশলতা মুর্শিদাবাদবাসীর বুঝতে আরও সময় লাগবে।#
যে কোনও স্কুল, কলেজ স্থাপনের মূল উদ্দেশ্যই হল সেই এলাকার জনসাধারণকে শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। শহর গুলিতে বেশি স্কুল কলেজ আছে বলে আজও শহর গুলি গ্রামের তুলনায় শিক্ষায় বেশি এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি খাটে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দ্যেশই হল সেই এলাকার মানুষকে উচ্চ-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। আর্থসামাজিক দিক্ থেকে পিছিয়ে থাকা মুর্শিদাবাদে আজ পর্যন্ত সেই চেষ্টা দেখা যায়নি। অথচ, সরকারি, বেসরকারি পরিসংখ্যানে মুর্শিদাবাদকে দেশ ও রাজ্যের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে দেখানো হয়। হয়তো মুর্শিদাবাদ কে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবেই দেখতে ভাল লাগে। কারণ, মুর্শিদাবাদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ সরকারি ভাবে এখনো তো চোখে পড়ছেনা। তা না হলে এখনো মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে কেন। যেখানে রাজ্যে প্রতি বছর দু একটা করে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে।
তথ্য: Saidur Rahaman
Reviewed by Dhuliyan City
on
22:33
Rating:
No comments: