সুতি, ২২ সেপ্টেম্বর : শখে বা কবিগুরুর স্টাইলে নয়। ঘর নেই। তাই দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গাছতলাতেই চলছে স্কুল। ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দিনের পর দিন প্রাথমিক পাঠ নিচ্ছে স্থানীয় শিশুরা। এভাবে চলছে সুতি ১ নম্বর ব্লকের আহিরণ হাটপাড়ার SSK স্কুল। জমিদাতা পাওয়া গেলে সরকার বাড়ি তৈরি করে দিতে পারত।
কিন্তু, ১৭ বছরেও চার কাঠা জমি দিতে কেউ এগিয়ে আসেননি। আর তার জেরেই আজও স্কুলের ৭৩ জন পড়ুয়া খোলা আকাশের নিচে নিচ্ছে প্রাথমিকের পাঠ। শুধু তাই নয়, মিড মিলের রান্নাঘরের জন্যও প্রতিমাসে ৫০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে। তবে সেখানেই রাখা হয় স্কুলের চেয়ার টেবিল ও ব্ল্যাক বোর্ড সহ যাবতীয় সরঞ্জাম। বর্ষাকালে কোনও তালিকা মেনে নয়, বৃষ্টি হলেই মেলে ছুটি। বন্ধ থাকে মিড ডে মিলের রান্নাও। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা থেকে শুরু করে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন সবার মুখেই এক বুলি, জায়গা নেই। তাই দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে।এই গাছতলাতেই ১৭ বছর ধরে চলছে স্কুল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে তৈরি হয় এই আহিরণ হাটপাড়ার SSK স্কুলটি। সেই সময়ে এই স্কুলে যোগ দেওয়া দু’জন শিক্ষিকার মধ্যে প্রধানশিক্ষিকা নমিতা ঘোষ ২০০৩ সালে গাছতলা থেকেই অবসর নিয়েছেন। পরে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হয়ে যোগ দেন চঞ্চলবালা ঘোষ। পুরোনো সেই গাছতলাতেই ঠাঁই হয়েছে তাঁরও। ১৭ বছর আগে যে জায়গায় ক্লাস হতো। আজও সেখান থেকে একচুলও সরেনি স্কুলটি। বিভিন্ন জায়গা যেখানে দরিদ্র মানুষরাও স্কুল তৈরির জন্য বিনা শর্তে জায়গা দিয়েছেন। সেখানে জমি লিখে দেওয়া দূরের কথা পতিত জায়গাতেও স্কুল তৈরি হতে বাধা দিয়েছেন অনেকে। পরে অবশ্য দিলীপ ঘোষ নামে একজন বাসিন্দা নিজের বাগানে স্কুল চালানোর অনুমতি দেন। শুরু থেকে সেই দিলীপবাবুর বাগানেই তাই চলছে স্কুল। মাসিক ৫০০ টাকার বিনিময়ে দিলীপবাবুর একটি ঘরেই মিড ডে মিলের রান্না করা হয়। কচিকাঁচা পড়ুয়ারা রোদ মাথায় নিয়ে ক্লাস করলেও বৃষ্টি বা ঝড় হলেই দেয় দে-ছুট।
এই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা প্রতিমা দাস বলেন, আমরা গ্রামের প্রতিটি মানুষকে ধরে ধরে বলেছি। কিন্তু, জায়গা দিতে কেউ রাজি হননি। তাই এইভাবেই দিনের পর দিন স্কুল চালাতে বাধ্য হচ্ছি।
সুতি ১ নম্বর ব্লকের BDO দীপঙ্কর রায় বলেন, SSK স্কুল তৈরির জন্য সরকারি নিয়মে ছয় শতক বা চারকাঠা জমি দরকার। সরকারি নিয়মে জমি কিনে স্কুল বিল্ডিং তৈরি করার কোনও অনুমোদন মেলে না। স্কুলের নামে কেউ জমি লিখে দিলেই একমাত্র সরকারি টাকায় সেখানে বিল্ডিং তৈরি করা হয়।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন SSK-র নোডাল অফিসার নন্দিনী সরস্বতী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি খাসজমি পাওয়া গেছে। সেখানে বিল্ডিং তৈরি করার জন্য ৬ লাখ ২১ হাজার টাকা বরাদ্দও করা হয়েছে।
সূত্রঃ পুষ্পপ্রভাত নিউজ
Reviewed by Dhuliyan City
on
02:47
Rating:
No comments: