আজ থেকে ১১৯ বছর আগের কথা | মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ থানার অন্তগর্ত ধুলিয়ান তখন শিক্ষা দীক্ষায় মোটেই উন্নত ছিলনা | ব্যবসা বাণিজ্যের দিক থেকে ও ভৌগোলিক কারণে ধুলিয়ানের গুরুত্বকে অবশ্য অস্বীকার করা যায় না |
মহান কিছু ঘটার আগে যেমন তার ইতিহাস থাকে, থাকে তার প্রস্তুতি পর্ব , তেমনি এই প্রাচীন বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠার পেছনেও রয়েছে অনেক আয়োজন ,অনেক চিন্তা-ভাবনা,অনেক কর্মতৎপরতা |একদিন যার সৃষ্টি হয়েছিল এক সামান্য অঙ্কর রূপে কালের আবর্তনে তাই -ই হয়ে উঠেছে শাখাপত্র সমন্বিত বিরাট বনস্পতিতে |আজ এই প্রাচীন বিদ্যায়তনের ছত্রছায়ায় শতশত ছাত্রছাত্রী সারস্বত সাধনার মধ্য দিয়ে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত |
জগবন্ধু রায় কাঞ্চনতলা জমিদার পরিবারের আদি পুরুষ ছিলেন | জগবন্ধু রায় জমিদার থেকে প্রভূত অর্থ ও বিষয় সম্পত্তির অধিকারী হন ,জগবন্ধু রায়ের তিন পুত্র , ভগবতীচরণ ,শ্যামাচরণ ও পার্বতী চরণকে রেখে পরলোক গমন করেন |
জ্যেষ্ঠ পুত্র ভগবতী চরণ পিতার বিশাল সম্পত্তি দেখাশুনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন |ভগবতী চরণ ও পিতার ন্যায় বিষয় কর্মে বিশেষ পারদর্শী থাকায় তাঁর আমলেই জমিদারির চরম উন্নত হয় | পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে কাঞ্চনতলায় সে সময়ে শিক্ষা দীক্ষার কোন সুব্যবস্থা ছিল না |কাছাকাছি স্কুল বলতে ছিল পাকুড় রাজ স্কুল | অন্য কোন উপায় না কাথায় ভগবতী চরণ তাঁর পুত্র শচীন্দ্রনাথ কে পাকুড়ের স্কুলে ভর্তি করে দেন | কিন্ত কাঞ্চনতলা থেকে পাকুড়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে পড়াশুনা করা সত্যিই অসুবিধা জনক ছিল | কাঞ্চনতলায় যাতে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে মনোযোগী হয়ে ভগবতী চরণ ১৮৯৭ খ্রীষ্টাব্দে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন |
১৮৯৭ খ্রী : ইংল্যান্ডেশ্বরী ভিক্টোরিয়ার ডায়মন্ড জুবিলী অনুষ্ঠিত হয় | ঠিক ঐ ডায়মন্ড জুবিলীর বছর এই বিদ্যালয়টি তাঁর পিতার স্মৃতির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এর নাম করণ হয় কাঞ্চনতলা জগবন্ধু ডায়মন্ড জুবিলী ইনস্টিটিউশন | বিদ্যালয়টি প্রথমে মাইনর স্কুল ছিল এবং এটি গড়ে উঠেছিল বর্তমানে অবস্থিত বোর্ডিং-এ |এই বিদ্যালয়ের প্রথম ইংরেজি প্রধান শিক্ষক ছিলেন মি: কারপ্যাট্রিক | পরে আর একজন ইংরেজি হেড মাস্টার বিদ্যালয়ের কর্মভার গ্রহণ করেন , তিনি মি: স্মির্টন নামে খ্যাত ছিলেন |শচীন্দ্রনাথ এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সাহেব মাস্টার মশায়ের কাছে শিক্ষা লাভ করেন |
কাঞ্চনতলা জে . ডি .জে ইনস্টিটিউশনকে মাইনর স্কুল থেকে কি করে উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে উন্নীত করা যায় তা নিয়ে চিন্তা ভাবনার অন্ত ছিল | এই ভাবে কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে ১৯০৮ সালে এই বিদ্যালয়টি উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদন লাভ করে |১৯১১ সালে হেমন্ত কুমার রায় এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করেন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন যোগিবর বরদা চরণ মজুমদার |হেমন্ত বাবু কাঞ্চনতলারই ছেলে এবং এই বিদ্যালয়ের ছাত্র | হেমন্ত বাবু দীর্ঘদিন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে ১৯৫৪ সালের শেষে অবসর গ্রহন করেন |তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি এই বিদ্যালয়টির প্রভূত উন্নতি করেন |তাঁর মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের সমস্ত গুণ থাকায় তার যথাযথ বিকাশ সম্ভব হয়েছিল |
শ্রীপতি ভূষণ দাস মহাশয়কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কার্যভার দেওয়া হয় ১৮.১১.১৯৫৬ সালে |শ্রীপতি বাবু পরবর্তীকালে এই বিদ্যালয়ের কেবল প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি এই বিদ্যালয়ের সম্পাদক হিসাবেও তাঁর কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করেন |
জীবনের শেষদিন পযর্ন্ত শ্রীপতি বাবু কাঞ্চনতলার সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন |
কাঞ্চনতলা জে . ডি .জে ইনস্টিটিউশনের অগ্রহতির মূলে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় |
৩০ শে এপ্রিল ১৯৬৭ সালে শ্রীপতি বাবু প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন |এর পরে ঐ বছরই শ্রী নীহার কুমার চৌধুরী আসেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে | নীহার বাবু ছিলেন অত্যন্ত কর্মঠ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন কারী ব্যাক্তি তাঁর কার্যকালে ১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়টি তিনটি শাখাসহ উচ্চমাধ্যমিকে উন্নীত হয় | ধুলিয়ান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গঙ্গার ভাঙনে প্রতি বছরই ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয় | এবং ১৯৭১ সালে আমাদের বিদ্যালয়ের বেশ কিছুটা অংশ গঙ্গা গর্ভে বিলীন হয়ে যাই | বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ঘর ভাঙনে বিধ্বস্ত হয় এবং বিদ্যালয়ের বেশ কিছু ভূসম্পত্তি গঙ্গার নিমজ্জিত হয় | গঙ্গা বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার এবং ভবিষ্যতে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ থাকায় ঠাকুর পাড়ায় জরুরী অবস্থায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকল্পে এক খন্ড জমি কিনে রাখা হয় | পরবর্তী কালে এখানে বিদ্যালয়ের জন্য নির্মাণকার্য শুরু হয় ,কিন্তু গঙ্গা শান্ত হওয়ায় তা পরিত্যক্ত হয় |
আমি সত্যিই গর্ব ও আনন্দ বোধ করি যখন ভাবি এই ঐতিহ্যবাহী জঙ্গীপুর মহকুমার দ্বিতীয় প্রাচীন বিদ্যালয়ের কাঞ্চনতলা স্কুলের সঙ্গে আমাদের একটা গভীর সম্পর্ক আছে ,আমাদের প্রিয় স্কুল কে আশ্রয় করে আমাদের জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান বছর গুলি অতিবাহিত হয়েছে -আনন্দ বেদনায় পরিপ্লাবিত হয়েছে |
( Dhuliyan City পেজের আমাদের Viewers এবং Followers ,ও গুরুজন দের কাছে আমাদের অনুরোধ যে আমাদের কোনকিছু ভুলত্রুটি থাকে তো অবশ্যই আমাদের Dhuliyan City পেজে জানাবেন , আমরা আমাদের প্রাচীনতম ধুলিয়ান শহরে প্রাচীন কথা গুল তুলে ধরার চেষ্টা করছি | আমাদের পেজের গুরুজনদের কাছে আনুরোধ যে তারা যদি কিছু আমাদের ধুলিয়ান শহর ব্যাপারে জানেন তো অবশ্যই আমাদের জানান )
Co-Founder / Admin ধন্যবাদ
Dhuliyan City
Reviewed by Dhuliyan City
on
08:14
Rating:
No comments: