বিড়ি বন্ধ, খেতে পাচ্ছি না, কান্না মুর্শিদাবাদের অসহায় মায়ের
December 1, 2016 0 Comment beedi worker, murshidabad, note ban
নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা,মুর্শিদাবাদ : নোট বদলের সিদ্ধান্ত পরিবারটির সব কেড়ে নিয়েছে।পেটে জ্বলছে আগুন।সংসারে অশান্তি।হ্যাঁ টিডিএন বাংলার পক্ষ থেকে আমরা গিয়েছিলাম মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের চাচন্ড গ্রামে।দেখা হল এক ডিভোর্সপ্রাপ্তা মহিলা সানোয়ারা বিবির সাথে।মূলত বিড়ি বেঁধেই এখানকার লোকেরা জীবিকা অর্জন করে।কিন্তু আজ নোট বদলের ফলে কোম্পানি বিড়ির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।সানোয়ারা বিবি জানান,” গত ১৫ বছর আগে উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলার দোমোহনাতে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সাথে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী বিড়ি অফিসে লেবেলিং এর কাজ করে। প্রথম দুটো মেয়ে হবার পর আমার উপর স্বামী প্রচন্ড অত্যাচার চালাতো, কিন্তু তার পর যখন আরো দুটি মেয়ে সন্তান জন্ম হলো, তখন থেকে আমার উপর তীব্র অত্যাচার শুরু করে, আমাকে দড়ি দিয়ে বেধে মারা হয়, মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আমাকে ডিভোর্স দেয় আমার স্বামী। এখন কোনো রকমে মেয়েদের নিয়ে বিড়ি বেঁধে কষ্ট করে বাবার বাড়িতে রয়েছি। আমার ছেলে মেয়েদের ভালোভাবে পড়াতে পারছি না, জামাকাপড় কিনে দিতে পারছি না, এত কষ্ট করে তিনবছর থেকে মুখ বুজে সহ্য করছি। এখন আবার বিড়ি বন্ধ। কি করে খাবো! কোথায় যাবো ভেবে পাচ্ছি না।এ অবস্থায় ছেলেমেয়েকে কীভাবে পড়াবো? ”
ডিভোর্স প্রাপ্তা মহিলাটির বড়ো মেয়ে বিউটি খাতুন স্থানীয় স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। সে কান্নার সুরে বলেন, “আমার মা কষ্ট করে আমাদের পড়াশুনা করায়, আমরা মাকে বিড়ি বাধতে সাহায্য করি,কিন্তু আজ বিড়ির কাজ বন্ধ।এবার কী করবো বলবেন?”
এই অসহায় পরিবারটির কথা কেউ ভাবেনি। সব দল শুধু ভোট নিয়ে যায় কিন্তু সাহায্য করে না- আক্ষেপ অসহায় মেয়েটির। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও করুন এই পরিবারের প্রতি হবে কি? এই করুন দৃশ্য নজরে আসবে কি জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের?প্রশ্ন কিন্তু ঘুরছে গরিব পরিবারটির চার দেওয়ালে।
#টিডিএন বাংলা
No comments: